রাজধানী ডেস্ক
সরকার ঘোষিত বিদ্যুৎ সাশ্রয় নীতি বাস্তবায়নে কঠোর অবস্থানে রয়েছে ঢাকা ইলেকট্রিক সাপ্লাই কোম্পানি লিমিটেড (ডেসকো)। গত ২২ ও ২৩ এপ্রিল রাজধানীর মিরপুর, গুলশান ও বনানী এলাকার বিভিন্ন শপিংমল, মার্কেট ও বিপণিবিতানে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেছে সংস্থাটি। নির্ধারিত সময়ের পর দোকান খোলা রাখা এবং অতিরিক্ত আলোকসজ্জার দায়ে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানকে মোট ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। একই সাথে জব্দ করা হয়েছে অপ্রয়োজনীয় ডিসপ্লে লাইট।
শনিবার (২৫ এপ্রিল) ডেসকোর পক্ষ থেকে প্রেরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই অভিযানের বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়। গত ২৩ এপ্রিল সন্ধ্যায় মিরপুর এলাকায় পরিচালিত অভিযানে নেতৃত্ব দেন স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (যুগ্ম জেলা জজ) মো. হাদিউজ্জামান। অভিযানে দেখা যায়, সরকারি নির্দেশনা উপেক্ষা করে নির্দিষ্ট সময়ের পরেও অনেক বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান কার্যক্রম পরিচালনা করছে। ম্যাজিস্ট্রেট তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করেন এবং নিয়মের ব্যত্যয় ঘটায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।
এর আগে ২২ এপ্রিল গুলশান ও বনানী অঞ্চলে পৃথক একটি অভিযান চালানো হয়। ডেসকোর এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ জুবের আলমের নেতৃত্বে পরিচালিত এই অভিযানে আইন অমান্য করার দায়ে স্পার্ক গিয়ার ও বেস্টবাইসহ কয়েকটি স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানকে দশ হাজার টাকা আর্থিক দণ্ড প্রদান করা হয়। এছাড়া প্রয়োজনের অতিরিক্ত আলোকসজ্জা করে অপচয় করায় গুলশানের একটি খাবারের দোকান থেকে জরিমানা আদায় করা হয়। এসময় বেশ কিছু অপ্রয়োজনীয় ডেকোরেটিভ ও ডিসপ্লে লাইট খুলে নিয়ে জব্দ করেন কর্মকর্তারা।
ডেসকোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম আহমেদ এবং নির্বাহী পরিচালক (অপারেশন) প্রকৌশলী মো. রশিদুর রহমানের সরাসরি তত্ত্বাবধানে এই তদারকি কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। অভিযানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ডেসকোর তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী গোলাম রব্বানী, সনাতন দত্ত, শফিকুল ইসলাম, প্রকৌশলী আব্দুল লতিফ মিয়া ও মো. রায়হান আরেফিন।
বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সংকটের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ সরকার বিদ্যুৎ ব্যবহারে মিতব্যয়ী হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। বিশেষ করে বাণিজ্যিক এলাকায় রাত ৮টার পর দোকান ও আলোকসজ্জা বন্ধ রাখার বিষয়ে কঠোর নির্দেশনা রয়েছে। ডেসকো কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুতের চাপ কমাতে এবং নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে এই অভিযান চলমান থাকবে। সরকারি নির্দেশনা যারা মানবে না, তাদের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করাসহ আরও কঠোর শাস্তির আওতায় আনা হবে বলে হুঁশিয়ারি প্রদান করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের অভিযান সাধারণ গ্রাহক ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। ক্রমবর্ধমান চাহিদার বিপরীতে বিদ্যুতের অপচয় রোধ করা বর্তমান পরিস্থিতিতে অত্যন্ত জরুরি। ডেসকোর পক্ষ থেকে গ্রাহকদের অপ্রয়োজনীয় আলোকসজ্জা পরিহার এবং দিনের আলোর সর্বোচ্চ ব্যবহারের জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে। একই সাথে লোডশেডিং সহনীয় পর্যায়ে রাখতে ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কার্যক্রম গুটিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। এ ধরণের নজরদারি ভবিষ্যতে রাজধানীর অন্যান্য এলাকাতেও আরও জোরদার করা হবে বলে সংস্থাটি নিশ্চিত করেছে।