ক্রীড়া প্রতিবেদক
ওয়ানডে সিরিজে জয়ের ধারা বজায় রেখে এবার টি-টোয়েন্টি সিরিজে মাঠে নামার প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল। চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে আজ নিবিড় অনুশীলন সেশন পার করেছেন ক্রিকেটাররা। আসন্ন এই সিরিজে জাতীয় দলে প্রথমবারের মতো ডাক পেয়েছেন পেসার রিপন মন্ডল ও স্পিনার আব্দুল গাফফার সাকলাইন। তরুণ প্রতিভাদের পরখ করে দেখার পাশাপাশি শক্তিশালী ‘রিজার্ভ বেঞ্চ’ গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামছে চন্ডিকা হাথুরুসিংহের শিষ্যরা।
অনুশীলন শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে দলের স্পিন বোলিং কোচ মুশতাক আহমেদ টি-টোয়েন্টি দলে নবাগতদের অন্তর্ভুক্তি এবং প্রস্তুতির আদ্যোপান্ত তুলে ধরেন। তিনি তরুণ ক্রিকেটারদের জন্য এই সিরিজকে নিজেদের প্রমাণের একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ হিসেবে অভিহিত করেন। মুশতাক জানান, সামনের বড় টুর্নামেন্ট ও বিশ্বকাপের কথা মাথায় রেখে দলের বেঞ্চ শক্তিশালী করা এখন প্রধান লক্ষ্য। তিনি বলেন, “দলে নতুন কয়েকজন যুক্ত হয়েছে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিজেদের মেলে ধরার এটি তাদের জন্য বড় সুযোগ। গত ম্যাচে তানভীর খেলেছে, রিশাদ বিশ্রামে ছিল। বিশ্বকাপের আগে আমাদের ব্যাক-আপ খেলোয়াড়দের প্রস্তুত রাখতে হবে। দেশের হয়ে একটি ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতাও একজন ক্রিকেটারের আত্মবিশ্বাস বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।”
দলের লেগ স্পিনার রিশাদ হোসেনের বোলিং বৈচিত্র্য ও কৌশলগত উন্নয়ন নিয়ে কাজ করার কথাও জানান এই অভিজ্ঞ কোচ। রিশাদের গুগলি ডেলিভারিতে আরও সূক্ষ্মতা আনার প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করেন তিনি। মুশতাকের মতে, লেগ স্পিনাররা সাধারণত আক্রমণাত্মক বোলিংয়ের কারণে কিছুটা রান খরচ করলেও তাদের কার্যকারিতা নির্ভর করে নিয়ন্ত্রিত অ্যাকশন ও ক্রিজের সঠিক ব্যবহারের ওপর। তিনি বলেন, “রিশাদের গুগলিতে আরও উন্নতি করতে হবে। আমরা তার অ্যাকশন এবং ক্রিজ ব্যবহারের কৌশল নিয়ে কাজ করছি। একজন লেগ স্পিনারের জন্য রিপিটেবল অ্যাকশন অর্থাৎ একই ঢঙে বারবার বল করতে পারা খুবই জরুরি।”
বোলিংয়ের পাশাপাশি দলের ব্যাটিং ও পার্টনারশিপ নিয়েও ইতিবাচক মনোভাব ব্যক্ত করেন কোচিং স্টাফরা। ওয়ানডে সিরিজের শেষ ম্যাচে লিটন দাস ও নাজমুল হোসেন শান্তর মধ্যকার দায়িত্বশীল ব্যাটিং জুটির উদাহরণ টেনে মুশতাক আহমেদ বলেন, “দ্রুত তিন উইকেট হারানোর পর লিটন ও শান্তর জুটির মাধ্যমেই দল খেলায় ফিরেছে। ক্রিকেটে জুটির গুরুত্ব অপরিসীম, তা ব্যাটিং বা বোলিং যে বিভাগেই হোক।” বোলিং ইউনিটে মুস্তাফিজুর রহমান ও নাহিদ রানার সাফল্যের কৃতিত্ব দেওয়ার পাশাপাশি মেহেদী হাসান মিরাজ ও রিশাদ হোসেনের নিয়ন্ত্রিত স্পেলের প্রশংসা করেন তিনি।
সিরিজের প্রথম ম্যাচে মাঠে নামার আগে বাংলাদেশ দলের মূল চ্যালেঞ্জ হবে চট্টগ্রামের ব্যাটিং সহায়ক উইকেটে নতুন বোলারদের মানিয়ে নেওয়া। একদিকে নবাগত রিপন মন্ডল ও আব্দুল গাফফার সাকলাইনের অভিষেক হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, অন্যদিকে অভিজ্ঞ বোলারদের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার চ্যালেঞ্জ রয়েছে। টিম ম্যানেজমেন্ট মনে করছে, নবীন ও প্রবীণের সমন্বয়ে গঠিত এই স্কোয়াড টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে দলের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স গ্রাফকে আরও ঊর্ধ্বমুখী করবে। বিশেষ করে বিশ্বকাপের আগে ঘরোয়া ও দ্বিপাক্ষিক সিরিজগুলোতে নিয়মিত পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালিয়ে দলের শক্তিমত্তা যাচাই করতে চায় বিসিবি। আগামীকাল সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টি ম্যাচে স্বাগতিক বাংলাদেশ মাঠে নামবে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, ওয়ানডে সিরিজের জয়ের ছন্দ টি-টোয়েন্টিতেও ধরে রাখতে সক্ষম হবে টাইগাররা।