চট্টগ্রাম — জেলা প্রতিনিধি
চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলায় একটি বসতঘরের চালের টিন কেটে ভেতরে প্রবেশ করে নগদ অর্থ ও স্বর্ণালংকারসহ মূল্যবান নথিপত্র চুরির ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) দিবাগত গভীর রাতে উপজেলার আশিয়া ইউনিয়নের আশিয়া মল্লাপাড়া এলাকার একটি নতুন বাড়িতে এই চুরির ঘটনা ঘটে। সংঘবদ্ধ চক্রটি ঘর থেকে মালামাল লুটের পাশাপাশি জমিজমা সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র পুড়িয়ে ফেলেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী গৃহকর্তা শনিবার দুপুরে পটিয়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আশিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা হাজী মোজাফফর আহমদ চৌধুরী (৬৫) গত বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) বিকেলে তার স্ত্রীকে নিয়ে বড় মেয়ের বাড়িতে বেড়াতে যান। যাওয়ার সময় তিনি নিজ বসতঘরের প্রধান ফটকে তালা লাগিয়ে যান। শনিবার সকালে বাড়ি ফিরে এসে তিনি দেখতে পান ঘরের ভেতর সবকিছু তছনছ করা এবং রান্নাঘরের টিনের দরজা ভাঙা। পরবর্তীতে তিনি ঘরের ভেতরে প্রবেশ করে বুঝতে পারেন যে, অজ্ঞাতনামা দুর্বৃত্তরা ঘরের চালের টিন খুলে ভেতরে প্রবেশ করে এই অপকর্ম ঘটিয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ২৪ এপ্রিল রাত ১টা থেকে ৩টার মধ্যবর্তী সময়ে দুর্বৃত্তরা ঘরে প্রবেশ করে। তারা স্টিলের আলমিরা ভেঙে নগদ ৪৮ হাজার টাকা এবং প্রায় সাড়ে ৬ ভরি স্বর্ণালংকার লুট করে নিয়ে যায়। নগদ অর্থ ও অলংকারের পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদের তিনটি পাসপোর্ট, চারটি জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) এবং তিনটি জন্ম নিবন্ধন সনদও নিয়ে গেছে চক্রটি। তবে ঘটনার সবচেয়ে উদ্বেগজনক দিক হলো, দুর্বৃত্তরা জমিজমা সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র ঘরের ভেতর থেকে উদ্ধার করে রান্নাঘরে নিয়ে যায় এবং সেখানে আগুন ধরিয়ে দিয়ে তা সম্পূর্ণ ভস্মীভূত করে ফেলে।
ভুক্তভোগী হাজী মোজাফফর আহমদ চৌধুরী জানান, চোরচক্রটি পরিকল্পিতভাবে এই ঘটনা ঘটিয়েছে। তারা কেবল আর্থিক ক্ষতিই করেনি, বরং ভবিষ্যৎ জীবনযাপনের জন্য প্রয়োজনীয় গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র ও দলিলাদি পুড়িয়ে দিয়ে তাকে চরম বিপাকে ফেলেছে। তিনি আরও দাবি করেন, এর আগেও ঘর নির্মাণের সময় তার অনুপস্থিতিতে অজ্ঞাত ব্যক্তিরা ঘরে নথিপত্র খোঁজার উদ্দেশ্যে তল্লাশি ও ভাঙচুর চালিয়েছিল। সেই ধারাবাহিকতায় এবারের চুরির ঘটনায় শত্রুতা বা প্রতিহিংসার বিষয়টিও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
পটিয়া উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে সাম্প্রতিক সময়ে চুরির প্রবণতা বৃদ্ধি পাওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষ করে জনশূন্য বাড়িতে সিঁধ কেটে বা টিন কেটে প্রবেশের ঘটনায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর প্রভাব পড়ছে। স্থানীয়রা মনে করছেন, এই চক্রটি দীর্ঘ সময় ধরে নজরদারি চালিয়ে গৃহকর্তার অনুপস্থিতির সুযোগ গ্রহণ করেছে।
পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউল হক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, চুরির বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে। ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আলামত সংগ্রহ করেছে। দুর্বৃত্তদের শনাক্ত করতে এবং লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধারে পুলিশি তৎপরতা শুরু হয়েছে। আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে বলে তিনি আশ্বাস প্রদান করেন।
বর্তমানে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটি একদিকে আর্থিক ক্ষতি এবং অন্যদিকে আইনি নথিপত্র হারানোর ফলে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। পুলিশ এই ঘটনার নেপথ্যে কোনো পূর্বশত্রুতা রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখছে। তদন্ত শেষ হলে প্রকৃত দোষীদের পরিচয় জানা যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।