অর্থ বাণিজ্য ডেস্ক
দেশের স্বর্ণবাজারে সাম্প্রতিক মূল্যহ্রাসের পর বর্তমানে সোনার দাম স্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছে। সর্বশেষ বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) উল্লেখযোগ্য পরিমাণে দাম কমানোর পর সোমবার (১২ এপ্রিল) পর্যন্ত সেই নির্ধারিত মূল্যেই সোনা বিক্রি হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) বৃহস্পতিবার এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, আন্তর্জাতিক বাজারের প্রভাব এবং স্থানীয়ভাবে তেজাবি সোনার (পিওর গোল্ড) দাম হ্রাস পাওয়ায় সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নতুন করে সোনার মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এর ফলে দেশের বাজারে সোনার দামে তাৎপর্যপূর্ণ সমন্বয় আসে, যা ক্রেতা ও ব্যবসায়ীদের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলেছে।
সর্বশেষ নির্ধারিত মূল্য অনুযায়ী, দেশের বাজারে প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেট সোনার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৪৭ হাজার ৯৭৭ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেট সোনার প্রতি ভরি বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ ৩৬ হাজার ৭২১ টাকায় এবং ১৮ ক্যারেট সোনার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২ হাজার ৮৯৫ টাকা। অন্যদিকে সনাতন পদ্ধতির সোনার প্রতি ভরি বিক্রি হচ্ছে ১ লাখ ৬৫ হাজার ২৭৯ টাকায়।
বাজার সংশ্লিষ্টরা জানান, আন্তর্জাতিক স্বর্ণবাজারে দামের ওঠানামা, ডলারের বিনিময় হার এবং স্থানীয় চাহিদা-সরবরাহ পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করেই দেশে সোনার দাম নির্ধারণ করা হয়। সাম্প্রতিক সময়ে বৈশ্বিক বাজারে কিছুটা মূল্যপতনের প্রভাব দেশের বাজারেও প্রতিফলিত হয়েছে, যার ফলে এই মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সোনার দাম কমার ফলে স্বর্ণালংকার ক্রয়ের ক্ষেত্রে সাধারণ ভোক্তাদের আগ্রহ কিছুটা বাড়তে পারে। বিশেষ করে বিয়ে ও বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানের মৌসুম সামনে থাকায় বাজারে লেনদেন বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে দীর্ঘমেয়াদে সোনার দাম কোন দিকে যাবে, তা নির্ভর করবে আন্তর্জাতিক বাজারের প্রবণতা, ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অবস্থার ওপর।
অন্যদিকে, ব্যবসায়ীরা বলছেন, দাম কমার ফলে বাজারে কিছুটা ইতিবাচক প্রভাব পড়লেও ক্রেতাদের ক্রয়ক্ষমতা ও সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতিও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ফলে স্বর্ণবাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে হলে আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় উভয় পর্যায়ের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।