জেলা প্রতিনিধি
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু শনিবার (১১ এপ্রিল) দুপুরে নীলফামারীর সৈয়দপুর বিমানবন্দরে অবস্থানকালে অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাকে দ্রুত সৈয়দপুর সেনানিবাসের সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) নেওয়া হয় এবং প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করা হয়। শারীরিক অবস্থার অবনতি ও চিকিৎসকদের পরামর্শে তাকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে ঢাকায় স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র ও সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক নেতাদের বরাতে জানা যায়, দুই দিনের সফরসূচির অংশ হিসেবে মন্ত্রী সকালে ঢাকা থেকে বিমানযোগে সৈয়দপুর বিমানবন্দরে পৌঁছান। সেখান থেকে তার লালমনিরহাটে বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার কথা ছিল। বিমানবন্দরে নামার পর তিনি রেস্টরুমে বিশ্রাম নেন এবং নেতাকর্মীদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও আলোচনা করেন।
সৈয়দপুর রাজনৈতিক জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুর গফুর সরকার দুপুর ১২টা ৪০ মিনিটের দিকে গণমাধ্যমকে জানান, আলোচনা চলাকালে মন্ত্রী হঠাৎ মাথা ঘোরা ও শারীরিক দুর্বলতা অনুভব করেন। এ সময় উপস্থিত ব্যক্তিরা তাকে দ্রুত নিকটস্থ সেনানিবাসের সিএমএইচ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসকরা তাকে প্রাথমিক পর্যায়ের চিকিৎসা প্রদান করেন।
চিকিৎসা শেষে তার শারীরিক অবস্থা পর্যালোচনা করে উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় নেওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দুপুর ১২টা ১০ মিনিটের একটি নিয়মিত ফ্লাইটে তাকে ঢাকায় পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল। তবে শারীরিক অবস্থার কারণে ওই ফ্লাইটে তার যাত্রা সম্ভব হয়নি।
পরবর্তীতে চিকিৎসকদের পরামর্শে এবং পরিস্থিতি বিবেচনায় এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে ঢাকায় স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এ সময় ঢাকাগামী এয়ার অ্যাম্বুলেন্স সৈয়দপুরের উদ্দেশে রওনা হয় বলে জানা যায়। বিমানটি পৌঁছানোর পর তাতে করে মন্ত্রীকে ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হবে।
সৈয়দপুর বিমানবন্দর ও সংশ্লিষ্ট এলাকাটি উত্তরাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত, যেখানে নিয়মিতভাবে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সরকারি কর্মকর্তা ও বিভিন্ন পেশার ব্যক্তিরা যাতায়াত করেন। ফলে আকস্মিক এই ধরনের স্বাস্থ্যগত জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত চিকিৎসা ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিমানবন্দর সংলগ্ন সামরিক হাসপাতাল এবং এয়ার অ্যাম্বুলেন্স সুবিধা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
এ ঘটনায় মন্ত্রীর বর্তমান শারীরিক অবস্থার বিস্তারিত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে চিকিৎসা সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, উন্নত পর্যায়ের চিকিৎসার জন্য তাকে রাজধানীতে স্থানান্তর করা হচ্ছে এবং সেখানে প্রয়োজনীয় পরীক্ষানিরীক্ষা ও চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
উল্লেখ্য, দেশের উত্তরাঞ্চলে সরকারি ও রাজনৈতিক সফরের ক্ষেত্রে সৈয়দপুর বিমানবন্দর একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এ ধরনের সফরে হঠাৎ স্বাস্থ্য জটিলতা দেখা দিলে নিকটস্থ সামরিক চিকিৎসা সুবিধা এবং জরুরি পরিবহন ব্যবস্থা দ্রুত সাড়া দিতে সক্ষম হওয়ায় তাৎক্ষণিক চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা সহজ হয়।