অনলাইন ডেস্ক
ফিলিস্তিনের গাজ্জা উপত্যকায় ড্রোন হামলায় আলজাজিরার এক সাংবাদিক মোহাম্মদ ওয়াইশাহ নিহত হয়েছেন। তিনি গাজ্জাভিত্তিক আলজাজিরা মুবাশ্বেরের সংবাদদাতা ছিলেন। হামলা বুধবার (৮ এপ্রিল) গাজ্জা সিটির পশ্চিমে উপকূলীয় আল-রাশিদ সড়কে ঘটে। ঘটনার সময় ওয়াইশাহের গাড়ি লক্ষ্যবস্তু হয়ে আগুন ধরে যায় এবং তিনি ঘটনাস্থলেই মারা যান।
আলজাজিরা এক বিবৃতিতে এই হত্যাকাণ্ডকে আন্তর্জাতিক আইন ও সাংবাদিকতার নীতিমালার স্পষ্ট লঙ্ঘন হিসেবে নিন্দা জানিয়েছে। তারা জানিয়েছে, সাংবাদিকদের সরাসরি লক্ষ্যবস্তু করে হামলা চালানো হচ্ছে, যা সংবাদ সংস্থাগুলোর সত্য প্রকাশের প্রচেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, এটি সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও স্বাধীন সাংবাদিকতার উপর একটি মারাত্মক হুমকি।
গাজ্জার সরকারি মিডিয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ইসরাইলি সামরিক অভিযান ও আগ্রাসনে এখন পর্যন্ত অন্তত ২৬২ জন সাংবাদিক নিহত হয়েছেন। এই সংখ্যার মধ্যে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক সাংবাদিকদের উভয়ই অন্তর্ভুক্ত। হামলার ফলে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা সংকট এবং তথ্য প্রবাহে প্রতিবন্ধকতার বিষয়টি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, গাজ্জার চলমান উত্তেজনা ও সামরিক অভিযানের কারণে সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে বড় ধরনের ঝুঁকি সৃষ্টি হচ্ছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও সাংবাদিকতা সংস্থা গুলো এই পরিস্থিতি নিয়ে সতর্কতা জারি করেছে এবং পক্ষকালীন হামলা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, হামলার সঙ্গে সরাসরি জড়িত কোনো পক্ষের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে গাজ্জার সাধারণ নাগরিক ও সংবাদকর্মীরা নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করছেন।
এই ঘটনায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সাংবাদিকদের সুরক্ষা ও যুদ্ধকালীন অঞ্চলে নিরপেক্ষ সংবাদ পরিবেশ নিশ্চিত করার জন্য বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা চাপ প্রয়োগের পরিকল্পনা নিয়েছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, সাংবাদিকদের ওপর হামলা চললে গাজ্জার পরিস্থিতি সম্পর্কে সঠিক তথ্য জনগণ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে পৌঁছানো কঠিন হয়ে যাবে।