আইন আদালত ডেস্ক
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যা মামলায় দুই পুলিশ সদস্যকে মৃত্যুদণ্ড এবং তিন কর্মকর্তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। বৃহস্পতিবার দুপুরে বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল এ রায় ঘোষণা করেন।
ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর। দীর্ঘ শুনানি ও সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আলোচিত এ মামলার রায় ঘোষণা করা হয়, যা দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জবাবদিহিতা ও মানবাধিকার প্রশ্নে গুরুত্বপূর্ণ নজির হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
রায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন—এএসআই (সশস্ত্র) আমির হোসেন ও কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়। তারা বর্তমানে গ্রেপ্তার অবস্থায় রয়েছেন। ট্রাইব্যুনাল তাদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় সর্বোচ্চ সাজা প্রদান করেন।
এ ছাড়া যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে তৎকালীন সহকারী পুলিশ কমিশনার (কোতোয়ালী জোন) আরিফুজ্জামান ওরফে জীবন, তাজহাট থানার তৎকালীন পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) রবিউল ইসলাম ওরফে নয়ন এবং এসআই বিভূতি ভূষণ রায় ওরফে মাধবকে। রায়ে বলা হয়, তাদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সংশ্লিষ্টতা অপরাধ সংঘটনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
মামলায় মোট ৩০ জনকে আসামি করা হয়েছিল। আদালত অপর আসামিদের বিরুদ্ধেও অভিযোগের ভিত্তিতে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড প্রদান করেন। তবে প্রত্যেকের ক্ষেত্রে অপরাধে সম্পৃক্ততার মাত্রা ও প্রমাণের ভিত্তিতে সাজা নির্ধারণ করা হয়েছে বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় শিক্ষার্থী আবু সাঈদ আন্দোলনে অংশগ্রহণের প্রেক্ষাপটে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানে নিহত হন। ঘটনাটি দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ ওঠে। পরবর্তীতে বিষয়টি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন হয়।
বিস্তারিত আসছে…