রাজধানী ডেস্ক
রাজধানীর বিভিন্ন ফিলিং ষ্টেশনে তেলের সরবরাহ সংকট অব্যাহত রয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে দেখা যায়, বেশিরভাগ পাম্প বন্ধ অবস্থায় রয়েছে, আর খোলা থাকা পাম্পগুলোতে তেল পাওয়া গেলেও সেখানে দীর্ঘ যানবাহনের লাইন তৈরি হয়েছে। রেশনিং পদ্ধতির আওতায় মোটরসাইকেলে সর্বোচ্চ পাঁচশ থেকে ছয়শো টাকা এবং ব্যক্তিগত গাড়িতে সর্বোচ্চ এক হাজার ২০০ টাকার তেল সরবরাহ করা হচ্ছে।
কুড়িল এলাকায় অবস্থিত তেল পাম্পগুলোতে সকাল থেকেই দীর্ঘ গাড়ি লাইনের দৃশ্য লক্ষ্য করা গেছে। স্থানীয় চালকরা জানান, সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত এমন ভিড় বজায় থাকে, যার কারণে সময় এবং জ্বালানি উভয়ই বেশি ব্যয় হয়।
রাষ্ট্রায়ত্ব তেল কোম্পানি পরিচালিত মেঘনার তেল পাম্প এবং মেঘনা মডেল সার্ভিস সেন্টার ফিলিং ষ্টেশনে রেশনিং পদ্ধতিতে তেল বিতরণ করা হলেও লাইনে অপেক্ষা করতে হচ্ছে অনেক সময়। এর ফলে কর্মজীবী মানুষদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় ব্যাঘাত সৃষ্টি হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরবরাহ চেইনে সমস্যা, আমদানি বিলম্ব এবং তেলের চাহিদা বৃদ্ধির কারণে এই সংকট দেখা দিয়েছে। তেলের অভাবে যানবাহন চলাচলে সমস্যা সৃষ্টি হওয়ায়, ব্যবসা ও জনজীবনের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সংকট মোকাবিলায় তেলের সরবরাহ বৃদ্ধি এবং রেশনিং ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করা হচ্ছে। এর পাশাপাশি, রাজধানীর বিভিন্ন অঞ্চলে পর্যাপ্ত জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত তেল সরবরাহ পাম্প খোলা হচ্ছে।
শ্রমজীবী মানুষ এবং গাড়িচালকরা জানান, যদিও রেশনিং কার্যক্রম কিছুটা স্বস্তি দিয়েছে, তবুও দীর্ঘ লাইন এবং তেলের অপ্রতুল সরবরাহ দৈনন্দিন চলাচল ও ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডে ব্যাঘাত সৃষ্টি করছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে ক্রমাগত তেলের রেশনিং ও সরবরাহ ব্যবস্থার পুনর্বিন্যাস প্রয়োজন বলে অভিমত প্রকাশ করেন তারা।
রাজধানীর যানজট নিয়ন্ত্রণ ও তেলের সমতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।