স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ ডেস্ক
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত বলেছেন, হাম পরিস্থিতি মোকাবেলায় সরকার দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নিয়েছে। তিনি জানান, যেখানে ঘাটতি রয়েছে, তা পূরণে সরকার নিজ দায়িত্বে কাজ করছে। দেশের শিশুদের টিকাদান কর্মসূচি ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে এবং তা চলমান থাকবে, কোনো ঘাটতি রাখার কথা নেই।
রবিবার (৫ এপ্রিল) সকালে গাজীপুর সদর উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়ন পরিষদে শিশুদের হাম ও রুবেলা প্রতিরোধে জরুরি টিকাদান কর্মসূচি উদ্বোধনকালে প্রতিমন্ত্রী এসব তথ্য জানান।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, “আমরা ইতিমধ্যে দেশের ১৮টি জেলার ৩০টি উপজেলায় এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন শুরু করেছি। সরকার বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করছে। টিকাদান বিষয়ক একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি রয়েছে, যা আমাদেরকে নিয়মিত পরামর্শ দিচ্ছে।” তিনি আরও জানান, “প্রতিদিন সারা দেশের তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং সেই তথ্যের ভিত্তিতে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ উপজেলা শনাক্ত করা হচ্ছে। এই কার্যক্রমে ইউনিসেফ ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) সহযোগিতা করছে।”
ডা. মুহিত বলেন, “সরকার ও স্থানীয় প্রতিনিধি টিকাদান কর্মসূচিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। কোনো শিশুও টিকার বাইরে থাকবে না। যারা টিকা দিচ্ছেন, তারা তাদের বাড়ির প্রতিবেশী ও আত্মীয়-স্বজনের শিশুদেরও টিকা গ্রহণের জন্য উৎসাহিত করবেন।”
এ সময় উপস্থিত ছিলেন গাজীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য এম মঞ্জুরুল করিম রনি, গাজীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম বাচ্চু, গাজীপুর জেলা প্রশাসক, গাজীপুর পুলিশ সুপার, গাজীপুর জেলা সিভিল সার্জন এবং ইউনিসেফসহ বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা।
সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, টিকাদান কর্মসূচি দেশের অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলে সম্প্রসারণ করা হবে। এছাড়া, জনগণের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য কমিউনিটি ভিত্তিক প্রচারণা ও শিক্ষামূলক কার্যক্রমও চলমান থাকবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিশেষজ্ঞরা আশ্বাস দিয়েছেন, তথ্য ও বৈজ্ঞানিক প্রমাণের ভিত্তিতে কার্যক্রম পরিচালনার কারণে হাম ও রুবেলা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে।
শিশুদের জন্য এই জরুরি টিকাদান কর্মসূচি সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত স্বাস্থ্য উদ্যোগগুলোর মধ্যে একটি। সরকারের লক্ষ্য, দেশের প্রতিটি শিশু সুরক্ষিত এবং সংক্রমণ হ্রাসের মাধ্যমে সামগ্রিক জনস্বাস্থ্য উন্নত করা।