জাতীয় ডেস্ক
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার ঘোষণার মাধ্যমে জাতি মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণের প্রেরণা পায় এবং দীর্ঘ নয় মাসের সংগ্রামের মধ্য দিয়ে স্বাধীনতা অর্জন সম্ভব হয়। তিনি বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা একটি দীর্ঘ সংগ্রামের ফল, যা জাতির জন্য গর্বের বিষয়।
বুধবার (২৫ মার্চ) সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন। সাক্ষাৎকারে তিনি ১৯৭১ সালের মার্চ মাসের বিভিন্ন ঘটনা ও নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ২৫ মার্চের কালরাতে পাকিস্তানি বাহিনীর অভিযানের মাধ্যমে একটি ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। তিনি উল্লেখ করেন, ওই রাতে নিরস্ত্র মানুষের ওপর হামলা চালানো হয় এবং ব্যাপক প্রাণহানি ঘটে। এর পরদিন স্বাধীনতার ঘোষণার মধ্য দিয়ে জাতি নতুন এক অধ্যায়ে প্রবেশ করে এবং মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়।
তিনি বলেন, স্বাধীনতার ঘোষণার পর দেশের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ যুদ্ধে অংশগ্রহণে উদ্বুদ্ধ হয়। দীর্ঘদিন ধরে চলমান স্বাধিকার আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় এই ঘোষণা মুক্তিযুদ্ধকে ত্বরান্বিত করে এবং একটি স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করে।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, স্বাধীনতার ঘোষণার সংবাদ পাওয়ার পর অনেকেই রাস্তায় নেমে আসেন এবং সংগঠিত প্রতিরোধ গড়ে তোলার চেষ্টা করেন। সে সময় স্থানীয় পর্যায়ে অস্ত্র সংগ্রহ এবং প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়। তিনি জানান, বিভিন্ন স্থানে সড়ক ও সেতু ধ্বংস করে পাকিস্তানি বাহিনীর অগ্রযাত্রা প্রতিরোধের চেষ্টা করা হয়।
মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে সীমান্তবর্তী এলাকায় আশ্রয় নেওয়ার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে তিনি বলেন, ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে অস্থায়ীভাবে অবস্থান করে মুক্তিযোদ্ধাদের সংগঠিত করা হয়। সেখানে স্থানীয় সহযোগিতা ও সহায়তার মাধ্যমে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালিত হয়। তিনি উল্লেখ করেন, সীমান্ত এলাকায় যুব ক্যাম্প স্থাপন করে তরুণদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়, যা পরবর্তীতে মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয় ভূমিকা রাখে।
তিনি আরও বলেন, ধীরে ধীরে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের সহায়তায় প্রশিক্ষণ কার্যক্রম সম্প্রসারিত হয় এবং বিভিন্ন স্থানে মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য প্রশিক্ষণ কেন্দ্র গড়ে ওঠে। এসব প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের মাধ্যমে সংগঠিত প্রতিরোধ শক্তিশালী হয় এবং মুক্তিযুদ্ধের কাঠামো সুসংহত হয়।
মুক্তিযুদ্ধের সময়কার রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি বলেন, বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠন ভিন্ন ভিন্ন অবস্থান থেকে যুদ্ধের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিল। তিনি উল্লেখ করেন, কিছু ক্ষেত্রে সমন্বয়ের অভাব ও পারস্পরিক অবিশ্বাসের কারণে চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি হয়। তবুও এসব বাধা অতিক্রম করে মুক্তিযুদ্ধের লক্ষ্য অর্জনে সবাই নিজ নিজ অবস্থান থেকে ভূমিকা রাখে।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জন করে। তিনি উল্লেখ করেন, এই সংগ্রাম ছিল জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল এবং এতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অবদান রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, মুক্তিযুদ্ধের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে ইতিহাস সম্পর্কে সচেতন করা প্রয়োজন, যাতে স্বাধীনতার মূল্য ও তাৎপর্য সম্পর্কে তারা সম্যক ধারণা লাভ করতে পারে।