বাংলাদেশ ডেস্ক
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে সেখানে অবস্থানরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার কূটনৈতিক পর্যায়ে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ। শুক্রবার (২০ মার্চ) সকাল সাড়ে ১১টায় রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ৮ নম্বর ফটকের সামনে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা জানান।
এর আগে, একই দিন সকাল পৌনে ১১টায় ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে নিহত প্রবাসী বাংলাদেশি মোশাররফ হোসেনের মরদেহ বিমানবন্দরে পৌঁছায়। নিহতের পরিবারের প্রতি সহমর্মিতা জানাতে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বিমানবন্দরে উপস্থিত হন। এ সময় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীও সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
ব্রিফিংয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি প্রবাসীরা বর্তমানে অনিশ্চয়তা ও ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন। তাদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং প্রয়োজন হলে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে সরকার বিভিন্ন পর্যায়ে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। তিনি জানান, মধ্যপ্রাচ্যে কর্মরত বাংলাদেশি শ্রমিকদের একটি বড় অংশ দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন, ফলে তাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা সরকারের অগ্রাধিকার।
তিনি আরও বলেন, কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ জোরদার করা হয়েছে, যাতে প্রবাসীরা নিরাপদে থাকতে পারেন। প্রয়োজনে তাদের দেশে প্রত্যাবর্তনের ব্যবস্থা গ্রহণেও প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে সরকারি সংস্থাগুলোর পাশাপাশি বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশি দূতাবাস ও মিশনগুলো সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানান, মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত বাংলাদেশের কূটনৈতিক মিশনগুলো পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং প্রবাসীদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছে। কোনো প্রবাসী দেশে ফিরতে আগ্রহ প্রকাশ করলে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো সমন্বিতভাবে কাজ করছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, অনেক প্রবাসী বাংলাদেশি বর্তমানে দেশে ফেরার আগ্রহ প্রকাশ করছেন। তাদের জন্য বিশেষ ফ্লাইট পরিচালনার বিষয়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের সঙ্গে আলোচনা চলছে। প্রয়োজন অনুযায়ী অতিরিক্ত ফ্লাইটের ব্যবস্থা করা হতে পারে বলে তিনি জানান।
বৈশ্বিক এই সংঘাতের বিষয়ে তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতির স্থায়ী সমাধান কেবল কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমেই সম্ভব। যুদ্ধ পরিস্থিতির দ্রুত অবসান কামনা করে তিনি সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে সংলাপে ফিরে আসার আহ্বান জানান।
সামগ্রিকভাবে, মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা, সহায়তা এবং সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করতে সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে বলে ব্রিফিংয়ে তুলে ধরা হয়।