বাংলাদেশ ডেস্ক
গণমাধ্যমের সর্বোচ্চ স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি বলেছেন, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী গণমাধ্যমকে শক্তিশালী ও প্রযুক্তিনির্ভর হিসেবে গড়ে তুলতে ইতোমধ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) বিকেলে বরিশালের গৌরনদী উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
গৌরনদী প্রেসক্লাব আয়োজিত ‘পবিত্র মাহে রমজানের তাৎপর্য’ শীর্ষক এ অনুষ্ঠানে তথ্যমন্ত্রী গণমাধ্যমের বর্তমান অবস্থা, চ্যালেঞ্জ এবং সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন। তিনি বলেন, গণমাধ্যমকে আরও কার্যকর ও দায়িত্বশীল করতে সরকার বিভিন্ন নীতিগত ও কাঠামোগত উদ্যোগ গ্রহণ করেছে, যার মধ্যে প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি এবং তথ্যপ্রবাহের স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণ গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি উল্লেখ করেন, রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার মাধ্যম হিসেবে বাংলাদেশ টেলিভিশনের প্রতি মানুষের আস্থা হ্রাস পেয়েছে। এই আস্থা পুনরুদ্ধারে প্রতিষ্ঠানটির সার্বিক উন্নয়ন এবং কার্যক্রমে স্বায়ত্তশাসনের পরিমাণ বৃদ্ধি নিয়ে সরকার কাজ করছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ বেতারকেও সময়োপযোগী ও আধুনিক করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।
তথ্যমন্ত্রী আরও বলেন, তথ্যের অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করা বর্তমান সময়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ। তথ্যপ্রযুক্তির বিকাশের ফলে দ্রুত তথ্য আদান-প্রদানের সুযোগ তৈরি হলেও অপতথ্য ও বিভ্রান্তিকর তথ্যের বিস্তারও বেড়েছে। এই প্রেক্ষাপটে জনগণকে সঠিক তথ্য সরবরাহ এবং অপতথ্য থেকে সুরক্ষা দিতে সংশ্লিষ্ট খাতে প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধি অপরিহার্য। তিনি বলেন, এ লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও গণমাধ্যমকর্মীদের দক্ষতা উন্নয়নে সরকার কাজ করছে।
প্রেস ক্লাবের কাঠামো ও কার্যক্রম প্রসঙ্গে তিনি বলেন, একটি এলাকায় একাধিক প্রেস ক্লাব থাকলে বিভক্তি সৃষ্টি হতে পারে, যা গণমাধ্যমের সামগ্রিক শক্তিকে দুর্বল করে। এ কারণে একটি শক্তিশালী ও ঐক্যবদ্ধ প্রেস ক্লাব গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি, যেখানে সকল সাংবাদিক একত্রে কাজ করতে পারেন।
প্রশাসনের ভূমিকা সম্পর্কে তিনি বলেন, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সাংবাদিকরা যাতে দায়িত্ব পালনকালে কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন না হন, সে বিষয়ে প্রশাসনকে সচেতন থাকার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে গৌরনদী প্রেস ক্লাবের সভাপতি জহুরুল ইসলাম জহিরের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইব্রাহীম, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মেহেদী হাসান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবু সালেহ মো. আনসার উদ্দিন, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব মিজানুর রহমান খান মুকুল, বরিশাল প্রেসক্লাবের সভাপতি আমিনুল ইসলাম খসরু এবং গৌরনদী উপজেলা পর্যায়ের একাধিক প্রতিনিধি।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় সাংবাদিক, ব্যবসায়ী ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, পেশাগত দায়িত্ববোধ এবং তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধির গুরুত্ব তুলে ধরেন। তারা মত প্রকাশ করেন, গণমাধ্যমের শক্তিশালী ও দায়িত্বশীল ভূমিকা নিশ্চিত হলে তা দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামোকে আরও সুদৃঢ় করতে সহায়ক হবে।