জাতীয় ডেস্ক
সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেছেন, মালিক সমিতির সদস্যরা নিজেদের উদ্যোগে যাত্রীদের পরিবহনে সরকার নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে কম ভাড়া নিচ্ছেন এবং এবছরের ঈদযাত্রায় এখনও কোনো পরিবহন অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ার নজির পাওয়া যায়নি। মন্ত্রী এই মন্তব্য সোমবার (১৬ মার্চ) বেলা সাড়ে ১১টায় ঢাকা মহানগরীর মহাখালি বাস টার্মিনাল পরিদর্শনের সময় করেছেন।
মন্ত্রী জানান, সরকার নির্ধারিত ভাড়া অনুযায়ী যদি কোনো রুটে ভাড়া ৭০০ টাকা হয়, তবে পরিবহন মালিকরা যাত্রী আকৃষ্ট করতে প্রায়শই ৬০০ টাকায় ভাড়া নিচ্ছেন। কেউ কেউ ২০ টাকা কমিয়ে ৬৮০ টাকা নিচ্ছেন। এর অর্থ, গত সাত দিনে কোনো পরিবহন নির্ধারিত ভাড়া অতিক্রম করেনি। তিনি আরও বলেন, “এটি নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি নয়। হয়তো পূর্ববর্তী সময়ের তুলনায় কিছুটা বেশি হতে পারে।”
শেখ রবিউল আলম বলেন, এই পরিস্থিতি স্বাভাবিক এবং মালিক সমিতির সদস্যরা যাত্রী সেবা নিশ্চিত করতে নিজেদের ইচ্ছামতো ভাড়া কমিয়ে নিচ্ছেন। তিনি আরও জানান, পরিবহন খাতে সরকারের নিয়ন্ত্রণ ও তদারকি যথাযথ রয়েছে এবং কোনো অনিয়ম বা অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ার ঘটনা ঘটেনি।
এদিকে, ঈদে যাত্রীদের সুষ্ঠু ও নিরাপদ পরিবহন নিশ্চিত করতে সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয় বিভিন্ন প্রস্তুতি নিয়েছে। মহাখালি, গাবতলী ও কমলাপুরসহ দেশের প্রধান বাস টার্মিনালগুলোতে অতিরিক্ত বাস স্থাপন, যাত্রী বিন্যাস ও টিকিট ব্যবস্থাপনা করা হয়েছে। এছাড়া পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় করে যাত্রী সুরক্ষা ও যানজট নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
পরিবহন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সরকারি ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে যাত্রীর সাশ্রয় এবং মালিকদের জন্য ন্যায্য মুনাফার ভিত্তিতে। ঈদে যাত্রীদের চাপ এবং বাস চলাচলের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় ভাড়া কিছুটা ওঠানামা করতে পারে, তবে তা সরকার নির্ধারিত সীমার মধ্যে থাকে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মালিক সমিতির স্বতঃস্ফূর্ত ভাড়া কমানো যাত্রীদের জন্য ইতিবাচক প্রভাব ফেলে এবং সরকারের নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার কার্যকারিতা প্রদর্শন করে। তবে দীর্ঘমেয়াদে ভাড়া নিয়ন্ত্রণের স্থায়ী প্রক্রিয়া এবং পর্যাপ্ত বাস সরবরাহ নিশ্চিত করা সরকারের জন্য চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে যাচ্ছে।
মন্ত্রী আরও আশা প্রকাশ করেন যে, এবারের ঈদযাত্রা শান্তিপূর্ণ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় হবে। তিনি যাত্রীদের সতর্ক থাকার পাশাপাশি সময়মতো বাস টার্মিনালে পৌঁছানোর পরামর্শ দিয়েছেন।
সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় বলছে, ঈদ চলাকালীন যাত্রীর সুবিধার জন্য প্রতিটি রুটে পর্যাপ্ত বাস, টিকিটিং এবং যাত্রী সেবা নিশ্চিত করা হবে। মন্ত্রণালয় নিয়মিত মনিটরিং এবং জরুরি ত্রাণ ব্যবস্থার মাধ্যমে যাত্রীদের নিরাপদ ও সুষ্ঠু যাত্রা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
এভাবে সরকারি ও মালিক সমিতির যৌথ উদ্যোগে, ভাড়া নিয়ন্ত্রণ ও পর্যাপ্ত পরিবহন ব্যবস্থা নিশ্চিত করে এবারের ঈদযাত্রা নিরাপদভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।