বাংলাদেশ ডেস্ক
দেশব্যাপী পানি ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন ও কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্য নিয়ে ঘোষিত ‘খাল খনন কর্মসূচি–২০২৬’-এর উদ্বোধন করতে ঢাকা থেকে দিনাজপুরের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার সকালে তিনি রাজধানী থেকে যাত্রা শুরু করেন। দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার বলরামপুর এলাকায় ‘সাহাপাড়া খাল’ খননের মাধ্যমে এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন বলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে পাঠানো এক প্রেস বার্তায় বলা হয়েছে, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত ও ভরাট হয়ে যাওয়া খালগুলো পুনঃখননের মাধ্যমে পানি প্রবাহ স্বাভাবিক করা, জলাবদ্ধতা নিরসন এবং কৃষি ও পরিবেশ ব্যবস্থাপনা উন্নত করার উদ্দেশ্যে এই কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। এর অংশ হিসেবে পর্যায়ক্রমে দেশের বিভিন্ন জেলায় খাল খনন ও সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।
সফরসূচি অনুযায়ী, সোমবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে প্রধানমন্ত্রী ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে একটি অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটে সৈয়দপুরের উদ্দেশে যাত্রা করেন। সৈয়দপুর বিমানবন্দরে অবতরণের পর সেখান থেকে সড়কপথে দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার বলরামপুর এলাকায় অনুষ্ঠানের মূল ভেন্যুতে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, কৃষি ও পানি ব্যবস্থাপনা সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের প্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকবেন। অনুষ্ঠানে খাল পুনঃখননের কার্যক্রম, সম্ভাব্য উপকারিতা এবং বাস্তবায়ন পরিকল্পনা নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বিস্তারিত তুলে ধরা হবে বলে জানা গেছে।
দেশের উত্তরাঞ্চলের দিনাজপুরসহ আশপাশের এলাকায় বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা এবং শুষ্ক মৌসুমে সেচ সংকট দীর্ঘদিন ধরে একটি গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। অনেক ক্ষেত্রে প্রাকৃতিক খাল ও জলাধার ভরাট হয়ে যাওয়ায় পানি প্রবাহ ব্যাহত হয় এবং কৃষিকাজে প্রভাব পড়ে। সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের মতে, খাল পুনঃখনন ও জলাধার সংরক্ষণ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা গেলে সেচব্যবস্থা উন্নত হওয়ার পাশাপাশি বৃষ্টির পানি দ্রুত নিষ্কাশনের সুযোগ সৃষ্টি হয়, যা কৃষি উৎপাদন ও স্থানীয় পরিবেশ ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
সরকারি সূত্রে জানা গেছে, ‘খাল খনন কর্মসূচি–২০২৬’ প্রকল্পের আওতায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ খাল চিহ্নিত করে ধাপে ধাপে খনন ও সংস্কার কাজ পরিচালনা করা হবে। এতে কৃষি জমিতে পানি সরবরাহ সহজতর করা, নদী ও খালের সঙ্গে সংযোগ পুনরুদ্ধার করা এবং স্থানীয় জলাধার ব্যবস্থাকে কার্যকর রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার বলরামপুর এলাকার সাহাপাড়া খাল দীর্ঘদিন ধরে আংশিকভাবে ভরাট হয়ে ছিল বলে স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে। ফলে বর্ষাকালে পানি নিষ্কাশনে সমস্যা দেখা দিত এবং আশপাশের এলাকায় কৃষিকাজেও প্রতিবন্ধকতা তৈরি হতো। পুনঃখননের মাধ্যমে খালটির স্বাভাবিক প্রবাহ পুনরুদ্ধার করা গেলে এলাকার কৃষি ও পানি ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সেখানে আয়োজিত এক জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। পরে বিকেলে তিনি দিনাজপুর শহরের শেখ ফরিদ মডেল কবরস্থানে যাবেন এবং সেখানে তার পরিবারের সদস্যদের কবর জিয়ারত করবেন।
এ ছাড়া বিকেল ৫টার দিকে দিনাজপুর সার্কিট হাউস চত্বরে আয়োজিত সুধী সমাবেশ ও ইফতার মাহফিলে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো সফর উপলক্ষে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে বলে জানা গেছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, খাল খনন কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পানি ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং স্থানীয় পরিবেশ সংরক্ষণে সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে। সরকার পর্যায়ক্রমে দেশের অন্যান্য জেলাতেও এ ধরনের কার্যক্রম সম্প্রসারণের পরিকল্পনা করছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।