বাংলাদেশ ডেস্ক
গাজীপুর: পুলিশ সমাজের নিরাপত্তা ও সেবা নিশ্চিত করতে অপরিহার্য প্রতিষ্ঠান হিসেবে নিজেদের ভূমিকা পালন করছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) আলী হোসেন ফকির। তিনি বলেছেন, “দোলনা থেকে কবর পর্যন্ত পুলিশ ছাড়া সমাজ চলতে পারবে না। হাসপাতাল থেকে শিশুর নিরাপত্তা এবং কবর দেওয়ার সময় কঙ্কাল চুরি রোধের জন্যও পুলিশের উপস্থিতি অপরিহার্য।”
শনিবার বিকেলে গাজীপুর জেলা পুলিশ লাইন্স মাঠে অনুষ্ঠিত সুধী সমাবেশে তিনি এসব মন্তব্য করেন। আইজিপি আলী হোসেন ফকির বলেন, অতীতের বিতর্কিত সময় অতিক্রম করে পুলিশ বর্তমানে জনবান্ধব বাহিনী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, “এই ধারা অব্যাহত রাখতে সাধারণ মানুষের সহযোগিতা অপরিহার্য।”
আইজিপি তার বক্তব্যে দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের উল্লেখও করেন। তিনি বলেন, “একটি ঐতিহাসিক নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে সর্বজন গ্রহণযোগ্য ও বিশ্বস্ত সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তবে কিছু মহল নিজেদের স্বার্থে এ অর্জনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে অপপ্রচার চালাচ্ছে। দেশবাসীকে এ বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে।”
পুলিশের সেবার মানোন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করে আইজিপি বলেন, “থানায় বিচারপ্রার্থীরা যেন যথাযথ সেবা পান, সে বিষয়ে পুলিশ সদস্যদের আরও দায়িত্বশীল হতে হবে। কোনো ব্যক্তি যেন থানা থেকে অসন্তুষ্ট হয়ে ফিরে না যায়।”
সমাবেশে মাদকের ভয়াবহতা বিষয়েও আলোকপাত করেন আইজিপি। তিনি বলেন, “মাদক তরুণ সমাজকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে এবং ভবিষ্যৎ নেতৃত্বকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে। এ বিষয়ে অভিভাবকদের আরও সচেতন হওয়া প্রয়োজন।”
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন গাজীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য এম মঞ্জুরুল করিম রনি। স্বাগত বক্তব্য দেন গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. ইসরাইল হাওলাদার। এ ছাড়াও বক্তব্য দেন ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি রেজাউল করিম মল্লিক, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার তাহেরুল হক চৌহান এবং জেলা পুলিশ সুপার মো. শরিফ উদ্দিন।
সমাবেশে পুলিশের জনসংযোগ বৃদ্ধি, সেবা মানোন্নয়ন এবং সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে সাধারণ মানুষের সহযোগিতার গুরুত্বের ওপর জোর দেওয়া হয়। এছাড়া মাদক প্রতিরোধ, শিশু ও মৃত্যুদণ্ড সংক্রান্ত নিরাপত্তা, এবং পুলিশের আধুনিকায়ন বিষয়ক নানা কার্যক্রমের ওপর আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
আইজিপি আলী হোসেন ফকিরের বক্তব্যে দেশীয় পুলিশের বর্তমান অবস্থান ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার স্পষ্ট দিকনির্দেশনা উঠে এসেছে, যা সাধারণ জনগণ ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সমন্বয় ও সচেতনতা বৃদ্ধি করবে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।