জাতীয় ডেস্ক
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন আজ রবিবার (১৫ মার্চ) সকাল ১১টায় পুনরায় শুরু হচ্ছে। নতুন সংসদের যাত্রা শুরুর পর গত বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত প্রথম দিনের অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণ উপস্থাপনের পর স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ অধিবেশনটি রবিবার পর্যন্ত মুলতবি ঘোষণা করেছিলেন। সংসদ সচিবালয়ের নির্ধারিত কার্যসূচি অনুযায়ী, আজকের অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্ব, জরুরি জন-গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মনোযোগ আকর্ষণ এবং রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে।
জাতীয় সংসদ সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, আজকের কার্যদিবসে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রীদের কাছে সংসদ সদস্যদের উত্থাপিত প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার সূচি নির্ধারিত রয়েছে। এর মধ্যে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত প্রশ্ন অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। প্রশ্নোত্তর পর্বের মাধ্যমে সংসদ সদস্যরা সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রম, নীতি ও উদ্যোগ সম্পর্কে ব্যাখ্যা চাইতে পারবেন, যা সংসদীয় জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার অন্যতম একটি সাংবিধানিক প্রক্রিয়া।
সংসদের কার্য উপদেষ্টা কমিটির প্রথম বৈঠকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের সময়সূচি ও কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে, চলমান অধিবেশন আগামী ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত চলবে। সরকারি ছুটির দিন ছাড়া প্রতিদিন বিকেল ৩টায় সংসদের অধিবেশন বসবে। বৈঠকে সংসদের কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য আলোচ্যসূচি নির্ধারণসহ বিভিন্ন বিষয় পর্যালোচনা করা হয়।
শনিবার সংসদ ভবনের কেবিনেট কক্ষে অনুষ্ঠিত কার্য উপদেষ্টা কমিটির বৈঠকে স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অধিবেশনের সময়সূচি ও কার্যক্রম চূড়ান্ত করা হয়। বৈঠকে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আলোচনার জন্য মোট ৫০ ঘণ্টা সময় বরাদ্দের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সংসদের বিধি অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় সরকার ও বিরোধী দলের সদস্যরা অংশ নিয়ে ভাষণে উল্লিখিত বিভিন্ন নীতি, কর্মসূচি ও পরিকল্পনা নিয়ে মতামত প্রকাশ করতে পারেন।
চলমান অধিবেশনে সংসদ সদস্যদের পক্ষ থেকে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক প্রশ্ন ও প্রস্তাব জমা পড়েছে। সংসদ সচিবালয়ের তথ্য অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে আটটি প্রশ্ন এবং অন্যান্য মন্ত্রীদের উদ্দেশ্যে ৪৬০টি প্রশ্নসহ মোট ৪৬৮টি প্রশ্ন জমা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সংসদীয় বিধি-৭১ অনুযায়ী জরুরি জন-গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মনোযোগ আকর্ষণের জন্য ২৭টি নোটিশ জমা পড়েছে। এছাড়া বিধি-১৩১ অনুযায়ী সিদ্ধান্ত প্রস্তাবের ৯৭টি নোটিশ পাওয়া গেছে, যা সংসদীয় আলোচনার মাধ্যমে বিবেচনার জন্য উপস্থাপন করা হতে পারে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হওয়ার দিন সংসদের গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক কার্যক্রমও সম্পন্ন হয়। অধিবেশনের শুরুতে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান স্পিকার পদে মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদের নাম প্রস্তাব করলে তা কণ্ঠভোটে গৃহীত হয়। একই পদ্ধতিতে ডেপুটি স্পিকার হিসেবে ব্যারিস্টার কায়সার কামালের নামও অনুমোদিত হয়।
পরবর্তীতে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন নবনির্বাচিত স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারকে শপথ বাক্য পাঠ করান। সংসদের কার্যক্রম পরিচালনায় স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন এবং সংসদীয় বিধি ও প্রথা অনুযায়ী অধিবেশনের কার্যক্রম পরিচালনা, সংসদ সদস্যদের বক্তব্য উপস্থাপনের সুযোগ নিশ্চিত করা এবং সংসদের শৃঙ্খলা বজায় রাখার দায়িত্ব পালন করেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের এই প্রথম অধিবেশনকে নতুন সরকারের আইন প্রণয়ন ও নীতি বাস্তবায়নের সূচনাপর্ব হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আলোচনার মাধ্যমে সরকারের নীতি ও কর্মপরিকল্পনা নিয়ে সংসদ সদস্যদের মতামত তুলে ধরা হবে, যা পরবর্তী আইন প্রণয়ন ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে দিকনির্দেশনা প্রদান করতে পারে। সংসদীয় কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে এবং জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের লক্ষ্যে চলমান অধিবেশনকে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।