অর্থ বাণিজ্য ডেস্ক
ঢাকা: অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সঙ্গে ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন বুধবার (১১ মার্চ) এক বৈঠকে অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয়ে আলোচনা করেছেন। বৈঠকটি সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠক শেষে মার্কিন দূতাবাসের ভেরিফায়েড পেজে প্রকাশিত বিবৃতিতে রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টেনসেন বলেন, “আমার পুরোনো বন্ধু অর্থমন্ত্রী আমীর খসরুর সঙ্গে অভিন্ন অর্থনৈতিক অগ্রাধিকারের বিষয়ে সহযোগিতা বাড়ানোর সুযোগ নিয়ে আমি আলোচনা করেছি।” তিনি আরও জানান, দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক সম্পর্ক উন্নয়নের সম্ভাবনা এবং বর্তমান ও ভবিষ্যৎ বিনিয়োগ পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলাপ হয়েছে।
রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টেনসেন বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি অফিস অব টেকনিক্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স বাংলাদেশের অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কাজ করছে, যা পারস্পরিক সমৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এই সহযোগিতার মাধ্যমে বাংলাদেশে অর্থনৈতিক নীতি পরিকল্পনা, বাজেট প্রস্তুতি ও আর্থিক ব্যবস্থাপনা ক্ষেত্রে প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের সূত্রে জানা যায়, বৈঠকে দুই পক্ষ বিশেষ করে অর্থনৈতিক নীতি ও বিনিয়োগ-friendly পরিবেশ তৈরি, আর্থিক খাতের জবাবদিহিতা বৃদ্ধি, কর ব্যবস্থা উন্নয়ন এবং সরকারি বিনিয়োগ কার্যক্রমের দক্ষতা বৃদ্ধির মতো বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করেছেন। বৈঠকে মন্ত্রণালয়ের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন এবং তারা প্রাসঙ্গিক নীতি ও প্রকল্পের ওপর প্রযুক্তিগত সহায়তার সম্ভাবনা তুলে ধরেন।
বিশ্লেষকরা মনে করেন, এই ধরনের বৈঠক দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও মজবুত করতে সহায়ক। বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তিগত সহায়তা ও নীতি পরামর্শ দেশের আর্থিক ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও কার্যকারিতা বৃদ্ধি করতে পারে। পাশাপাশি, স্থানীয় ও বৈদেশিক বিনিয়োগকারীদের জন্য আরও অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি হতে পারে, যা দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়নে অবদান রাখবে।
বাংলাদেশে দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের এই ধরনের সংলাপ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বিশেষ করে ট্রেজারি অফিস অব টেকনিক্যাল অ্যাসিস্ট্যান্সের সহায়তায় বাজেট প্রস্তুতি, আর্থিক ব্যবস্থাপনা, সরকারি আর্থিক প্রতিবেদন ও হিসাবরক্ষণ প্রক্রিয়া উন্নয়নের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি আশা করা যাচ্ছে।
এই বৈঠক বাংলাদেশের অর্থনৈতিক পরিকল্পনা ও নীতি বাস্তবায়নে আরও কার্যকর সহযোগিতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক সংযোগকে সম্প্রসারণের নতুন দিক নির্দেশ করবে। উভয় পক্ষই পারস্পরিক সমৃদ্ধি অর্জন এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে সহযোগিতার আগ্রহ ব্যক্ত করেছেন।