জাতীয় ডেস্ক
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন জাতীয় সংসদের নতুন স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারকে শপথ করিয়েছেন। দুপুর ১২টার পর জাতীয় সংসদের কার্যালয়ে এই শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
প্রথমে মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ স্পিকার পদে শপথ গ্রহণ করেন। তিনি নতুন সাংসদদের নেতৃত্ব দেওয়ার পাশাপাশি সংসদের কার্যক্রম পরিচালনার দায়িত্ব পালন করবেন। পরবর্তীতে ডেপুটি স্পিকার পদে ব্যারিস্টার কায়সার কামালকে রাষ্ট্রপতি শপথ করান। ডেপুটি স্পিকার হিসেবে তার দায়িত্ব হবে স্পিকারের অনুপস্থিতিতে সংসদের কার্যক্রম পরিচালনা করা এবং বিভিন্ন সংসদীয় কার্যক্রম তদারকি করা।
শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে সংসদের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানটি সংক্ষিপ্ত হলেও তা সাংবিধানিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে, কারণ স্পিকার এবং ডেপুটি স্পিকার সংসদের সুষ্ঠু কার্যক্রম নিশ্চিত করার জন্য অপরিহার্য ভূমিকা পালন করেন।
স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচনের প্রক্রিয়া মূলত সংসদীয় বিধি অনুসারে সম্পন্ন হয়। স্পিকার নির্বাচনের মাধ্যমে সংসদের সদস্যরা নিজেরাই তাদের নেতৃত্ব নির্বাচিত করেন। ডেপুটি স্পিকারও স্পিকারের সাথে সমন্বয় করে সংসদ পরিচালনার কাজ সমন্বয় করবেন।
মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ পূর্বে সেনা বাহিনীতে কর্মরত ছিলেন এবং অবসরপ্রাপ্ত হওয়ার পর রাজনীতিতে প্রবেশ করেছেন। তিনি আগে সংসদের বিভিন্ন কমিটিতে দায়িত্ব পালন করেছেন। ব্যারিস্টার কায়সার কামাল একজন শিক্ষিত আইনজীবী ও রাজনীতিবিদ হিসেবে পরিচিত, যার নেতৃত্বে সংসদের নিয়ম ও প্রক্রিয়া সম্পর্কে অবগত থাকার কারণে তাকে ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত করা হয়েছে।
এ দুইজনের শপথ গ্রহণের মাধ্যমে জাতীয় সংসদের নেতৃত্বে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি এবং কার্যকারিতা বজায় রাখার আশা প্রকাশ করা হচ্ছে। বিশেষত সংসদীয় আইন প্রণয়ন, আলোচনা এবং সংসদীয় প্রক্রিয়ার সুষ্ঠু বাস্তবায়নে তাদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হবে।
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এই শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে বলেন, সংসদের উচ্চতর দায়িত্ব পালন করা ব্যক্তিদের শপথ একটি সাংবিধানিক প্রক্রিয়া, যা দেশের আইন-শৃঙ্খলা এবং গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার জন্য অপরিহার্য। তিনি দুই নেতার প্রতি আশা প্রকাশ করেন যে তারা জাতীয় সংসদের সুষ্ঠু কার্যক্রম এবং সাংবিধানিক দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করবেন।
এই শপথগ্রহণের মধ্য দিয়ে সংসদে নতুন নেতৃত্ব স্থাপন হয়েছে, যা আগামী সংসদীয় অধিবেশনগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রেক্ষাপট তৈরি করবে। দেশের আইন প্রণয়ন, বাজেট প্রণয়ন এবং জনগণের প্রতিনিধিত্বমূলক আলোচনা পরিচালনায় স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের সক্রিয় ভূমিকা সংসদীয় কার্যক্রমকে আরও কার্যকর ও সুশৃঙ্খল করবে।