1. admin@deshmediabd.info : admin :
  2. support@bdsoftinc.info : adminr :
বুধবার, ০১ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:১২ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদঃ
রাজশাহী মেডিকেল কলেজে শিশু আইসিইউ সংকট ও মৃত্যুর ঘটনা শহীদ জিয়ার স্বাধীনতার ঘোষণা ও নেতৃত্বের ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে সঠিকভাবে পৌঁছে দেওয়ার গুরুত্ব পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে অনিয়ম ও দুর্নীতি প্রতিরোধে জোরদার মনোযোগের ঘোষণা রাজধানীতে স্কুল সময়ের যানজট নিরসনে বিকল্প ব্যবস্থা খুঁজতে নির্দেশ বিআইডব্লিউটিসিকে জনবান্ধব ও লাভজনক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের নির্দেশনা নুরজাহান খানম প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মহাপরিচালক হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত বাংলাদেশ-সৌদি বৈঠকে হজ ও উমরাহ সেবায় সহযোগিতা জোরদারের সিদ্ধান্ত বাংলাদেশ-ভুটান তথ্যপ্রযুক্তি সহযোগিতা জোরদারে আলোচনা আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের অধিনায়ক মেসি শুরুতেই খেলতে পারেন জাম্বিয়ার বিপক্ষে সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোর বাজেট বৃদ্ধি, বকেয়া পরিশোধসহ অবকাঠামো ও সরঞ্জাম উন্নয়নে বরাদ্দ

নারীপ্রধান পরিবারের জন্য পরীক্ষামূলক ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি উদ্বোধন, মাসে আড়াই হাজার টাকা ভাতা

রিপোর্টার
  • আপডেট : মঙ্গলবার, ১০ মার্চ, ২০২৬
  • ৩২ বার দেখা হয়েছে

বাংলাদেশ ডেস্ক

দেশের নারীপ্রধান দরিদ্র ও নিম্নআয়ের পরিবারগুলোর সামাজিক সুরক্ষা জোরদার করতে পরীক্ষামূলকভাবে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি চালু করছে সরকার। এই কর্মসূচির আওতায় নির্বাচিত সুবিধাভোগী পরিবারগুলোকে প্রতি মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে ভাতা প্রদান করা হবে। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সকাল ১০টায় রাজধানীর বনানী এলাকায় টিঅ্যান্ডটি খেলার মাঠে এ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করার কথা রয়েছে।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, পাইলট বা পরীক্ষামূলক পর্যায়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে নারীপ্রধান দরিদ্র পরিবারগুলোকে আর্থিক সহায়তা প্রদানের উদ্দেশ্যে এ কর্মসূচি চালু করা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে দেশের ১৩টি জেলার ১৩টি সিটি করপোরেশন ও ইউনিয়নের মোট ১৫টি ওয়ার্ডে এই কর্মসূচি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মাধ্যমে নির্ধারিত এলাকাগুলোতে নারীপ্রধান পরিবারগুলো চিহ্নিত করে তথ্য সংগ্রহ ও যাচাই-বাছাই করা হয়েছে।

সরকারি তথ্য বিবরণী অনুসারে, পাইলটিং পর্যায়ে সারা দেশে মোট ৬৭ হাজার ৮৫৪টি নারীপ্রধান পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করা হয়। পরবর্তী সময়ে যাচাই-বাছাইয়ের জন্য দরিদ্র, হতদরিদ্র ও নিম্নমধ্যবিত্ত শ্রেণির ৫১ হাজার ৮০৫টি পরিবারের তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়। যাচাই প্রক্রিয়ায় ৪৭ হাজার ৭৭৭টি পরিবারের তথ্য সঠিক বলে নিশ্চিত করা হয়।

তবে তথ্য যাচাইয়ের সময় কিছু ক্ষেত্রে একাধিক সরকারি ভাতা গ্রহণ, সরকারি চাকরি, পেনশন সুবিধা বা অন্যান্য অসঙ্গতির বিষয় সামনে আসে। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে চূড়ান্তভাবে ৩৭ হাজার ৫৬৭টি নারীপ্রধান পরিবারকে ভাতা প্রদানের জন্য নির্বাচিত করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে একই ব্যক্তি বা পরিবারের একাধিক ভাতা গ্রহণের ঘটনা প্রতিরোধের চেষ্টা করা হয়েছে, যাতে প্রকৃত সুবিধাভোগীরা সহায়তা পান।

নতুন কর্মসূচির আওতায় প্রতিটি নির্বাচিত নারীপ্রধান পরিবারকে একটি করে আধুনিক ‘ফ্যামিলি কার্ড’ প্রদান করা হবে। এই কার্ডে স্পর্শবিহীন (কন্টাক্টলেস) চিপ প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে, যাতে কিউআর কোড এবং নিয়ার ফিল্ড কমিউনিকেশন (এনএফসি) সুবিধা সংযুক্ত থাকবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মতে, আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে কার্ড ব্যবস্থাপনা, তথ্য যাচাই এবং ভাতা বিতরণ প্রক্রিয়া অধিক স্বচ্ছ ও সহজ হবে।

একটি পরিবারের জন্য একটি ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে, যা সাধারণভাবে পাঁচজন সদস্যের জন্য প্রযোজ্য ধরা হয়েছে। তবে যৌথ বা একান্নবর্তী পরিবারের ক্ষেত্রে সদস্য সংখ্যা পাঁচের বেশি হলে প্রয়োজন অনুযায়ী আনুপাতিক হারে একাধিক কার্ড দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। এর মাধ্যমে বড় পরিবারগুলোর সদস্যদেরও সহায়তার আওতায় আনার সুযোগ রাখা হয়েছে।

প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত পরিবারগুলোকে প্রতি মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ভবিষ্যতে এই কর্মসূচির আওতায় নগদ সহায়তার পাশাপাশি সমমূল্যের খাদ্যপণ্য সরবরাহের বিষয়টিও বিবেচনা করা হতে পারে। এতে করে দরিদ্র পরিবারের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি জীবনযাত্রার ব্যয় মোকাবিলায় সহায়তা দেওয়া সম্ভব হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির অংশ হিসেবে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের লক্ষ্য হলো দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে সহায়তা প্রদান এবং তাদের আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধি করা। নারীপ্রধান পরিবারগুলো সাধারণত আয় ও কর্মসংস্থানের সীমিত সুযোগের কারণে বেশি ঝুঁকির মধ্যে থাকে। এ ধরনের পরিবারকে লক্ষ্য করে বিশেষ কর্মসূচি গ্রহণের মাধ্যমে তাদের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

পাইলট পর্যায়ের অভিজ্ঞতা মূল্যায়নের ভিত্তিতে ভবিষ্যতে এ কর্মসূচি দেশের অন্যান্য অঞ্চলেও সম্প্রসারণের সম্ভাবনা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। কর্মসূচির বাস্তবায়ন, সুবিধাভোগী নির্বাচন এবং ভাতা বিতরণ প্রক্রিয়ার কার্যকারিতা পর্যবেক্ষণের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো নিয়মিত মূল্যায়ন কার্যক্রম পরিচালনা করবে বলে জানা গেছে।

s
এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026