জাতীয় ডেস্ক
সরকার ৫টি দেশে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনারকে প্রত্যাহার করেছে। প্রত্যাহার করা কূটনীতিকদের ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সদর দপ্তরে রিপোর্ট করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রোববার (৮ মার্চ) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, পর্তুগাল, পোল্যান্ড, মেক্সিকো ও মালদ্বীপে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূতদের প্রত্যাহার করা হয়েছে। প্রত্যাহারকৃত রাষ্ট্রদূতরা হলেন এম মাহফুজুল হক (পর্তুগাল), মো. ময়নুল ইসলাম (পোল্যান্ড), এম মুশফিকুল ফজল (আনসারী) (মেক্সিকো) এবং মো. নাজমুল ইসলাম (মালদ্বীপ)।
এর পাশাপাশি যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের হাইকমিশনার আবিদা ইসলামকেও প্রত্যাহার করা হয়েছে এবং তাকে মন্ত্রণালয়ের সদর দপ্তরে বদলি করা হয়েছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রত্যেক রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনারকে অতিসত্ত্বর ঢাকায় ফিরে এসে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যোগ দিতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে সরকারের কূটনৈতিক ব্যবস্থাপনাকে আরও কার্যকর ও সমন্বিত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
কূটনৈতিক মহলের মতে, বিদেশে নিয়োগপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূতদের প্রত্যাহার ও বদলির বিষয়টি প্রাত্যহিক কূটনৈতিক কার্যক্রমের অংশ, যা সরকার বিভিন্ন কূটনৈতিক নীতি ও প্রয়োজন অনুযায়ী গ্রহণ করে থাকে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিয়মিতভাবে কূটনৈতিক প্রতিনিধি পরিবর্তনের মাধ্যমে দেশের স্বার্থ রক্ষা ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক সুসংহত রাখে।
সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের বিভিন্ন দূতাবাস ও হাইকমিশনকে আরও কার্যকরভাবে পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণের জন্য এমন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে পররাষ্ট্র বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। প্রত্যাহারকৃত রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনারদের দায়িত্ব নতুন বর্ষে কূটনৈতিক নীতি ও পররাষ্ট্র নীতিমালা বাস্তবায়নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে সংশ্লিষ্ট দূতাবাস ও হাইকমিশনের প্রশাসনিক ও কূটনৈতিক কার্যক্রমে সাময়িক পরিবর্তন আসতে পারে। তবে মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পদক্ষেপের ফলে বাংলাদেশের বিদেশে কূটনৈতিক উপস্থিতি ও কার্যক্রমে কোনো ব্যাঘাত ঘটবে না।
এ ধরনের নিয়মিত বদলি ও প্রত্যাহার বাংলাদেশের কূটনৈতিক প্রক্রিয়াকে শক্তিশালী ও সমন্বিত রাখার একটি অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিদেশে কর্মরত রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনারদের দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা দেশের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।