স্বাস্থ্য ডেস্ক
রাজধানীর জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল পরিদর্শনে গিয়ে রোগীদের বেডে রক্তমাখা দাগ এবং ছাড়পোকার উপদ্রব দেখে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল।
রোববার (৮ মার্চ) সকাল ১০টার দিকে হঠাৎ হাসপাতালে পৌঁছান মন্ত্রী। এ সময় স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিতও উপস্থিত ছিলেন। পরিদর্শনকালে রোগী ও তাদের স্বজনরা হাসপাতালের খাবারের নিম্নমান, তেলাপোকা-ছাড়পোকার উপদ্রব এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের বিষয়ে অভিযোগ জানান।
রোগীরা মন্ত্রীদের জানান, হাসপাতালের খাবারের মান সন্তোষজনক নয় এবং অনেক সময় তা গ্রহণযোগ্য নয়। বাধ্য হয়ে তাঁরা বাইরে থেকে খাবার আনার প্রয়োজন হয়। তারা আরও উল্লেখ করেন, প্রচুর পরিমাণে ছাড়পোকা এবং তেলাপোকা থাকায় রাতের ঘুম ব্যাহত হয় এবং খাবার সংরক্ষণও কঠিন হয়ে পড়ে। হাসপাতালের অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের কারণে রোগীর সঙ্গে থাকা স্বজনরাও অসুস্থ হয়ে পড়ছেন।
পরিদর্শনকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বেডে রক্তমাখা দাগের উপস্থিতি এবং ছাড়পোকার সংখ্যা লক্ষ্য করেন। হাসপাতাল পরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. মাহবুবুর রহমান স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে জানান, ছাড়পোকা প্রতিরোধের জন্য ব্যবস্থা নেওয়া হলেও কার্যকারিতা পর্যাপ্ত নয়। তিনি উল্লেখ করেন, “এত তেলাপোকা ও ছাড়পোকা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়নি। কিছু ব্যর্থতা আছে।”
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত পরিচালককে প্রশ্ন করেন, “দেড় মাস ধরে ডেঙ্গুর সময় যাচ্ছে। আপনি জানেন এবং দেখেন। তবুও এমন অবস্থা কেন?” এটি স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার ত্রুটি ও প্রয়োজনীয় নজরদারির প্রতি ইঙ্গিত দেয়।
পরিদর্শনকালে মন্ত্রী হাসপাতালের রান্নাঘরও ঘুরে দেখেন এবং রোগীদের জন্য প্রস্তুত রুটির মেয়াদ পরীক্ষা করেন। এ সময় হাসপাতালের স্বাস্থ্যবিধি, পরিচ্ছন্নতা এবং রোগীদের খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থার মান মূল্যায়ন করা হয়।
এ ধরনের পরিদর্শন স্বাস্থ্য খাতের দুর্বলতা ও মান নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজনীয়তা প্রকাশ করে। বিশেষত মানসিক স্বাস্থ্যসেবায় অপরিষ্কার পরিবেশ এবং কীটপতঙ্গের উপস্থিতি রোগী ও স্বজনদের স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে ফেলে। চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম এবং স্যানিটেশন মান উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তৎপরতা বৃদ্ধি প্রয়োজন।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, মানসিক স্বাস্থ্যসেবার প্রতিষ্ঠানগুলোতে নিয়মিত তদারকি এবং খাদ্য ও পরিচ্ছন্নতা মান নিয়ন্ত্রণ না করলে রোগীসেবা ব্যাহত হবে। এছাড়া হাসপাতালের খাবার সরবরাহ ও সংরক্ষণ ব্যবস্থার মান উন্নয়নে প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি।
পরিদর্শনের মাধ্যমে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় হাসপাতালের কার্যক্রমে ত্রুটি চিহ্নিত করেছে এবং প্রাথমিকভাবে পরিচ্ছন্নতা, কীটপতঙ্গ দমন ও খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থার মান উন্নয়নের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দিয়েছে।