জাতীয় ডেস্ক
সাভার: জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি বলেছেন, বাংলাদেশের সব জাতীয় সমস্যা সমাধানের মূল কেন্দ্রবিন্দু হবে জাতীয় সংসদ। রোববার (৮ মার্চ) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, এতদিন সংসদকে প্রাণবন্ত করার কথা বলা হলেও এখন সেই ধারণা বদলাতে হবে। সংসদকে সত্যিকার অর্থে কার্যকর ও সক্রিয় করতে হবে। এ লক্ষ্যেই প্রধানমন্ত্রী হুইপদের কার্যক্রমে নির্দেশনা দিয়েছেন এবং তারা সেই নির্দেশনার আলোকে কাজ করছেন।
নূরুল ইসলাম মনি আরও বলেন, আগামী ১২ মার্চ বসতে যাওয়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন প্রাণবন্ত ও কার্যকর হবে বলে আশা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, এই অধিবেশন নতুন উদ্যোগ গ্রহণ ও জাতীয় নীতি নির্ধারণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এর আগে তিনি অন্যান্য হুইপদের সঙ্গে শহীদ বেদিতে ফুলেল শ্রদ্ধা জানান এবং স্মৃতিসৌধের পরিদর্শন বইতে স্বাক্ষর করেন। এসময় সংসদের সকল হুইপ এবং সংসদ ভবনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বিশ্লেষকরা মনে করেন, নতুন অধিবেশনকে কার্যকর করতে হলে সংসদে সংলাপ ও অংশগ্রহণমূলক কার্যক্রম আরও জোরদার করতে হবে। সংসদকে কার্যকরী করে তোলা কেবল আইন প্রণয়ন নয়, দেশের সমসাময়িক সমস্যা যেমন অর্থনৈতিক নীতি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য সেবা সম্প্রসারণ, এবং নাগরিক অধিকার নিশ্চিতকরণেও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে।
স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদনকে দেশের ইতিহাস ও জাতির মহান ত্যাগের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের একটি অংশ হিসেবে ধরা হয়। প্রতি বছর স্বাধীনতা যুদ্ধে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন এবং জাতীয় ইতিহাসের শিক্ষণীয় দিকগুলো তরুণ প্রজন্মের মাঝে তুলে ধরা হয়।
নূরুল ইসলাম মনি বলেন, সংসদের কার্যক্রমকে জনগণের চাহিদা ও প্রত্যাশার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করে তোলা হবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, হুইপরা সংসদের কার্যক্রমে শৃঙ্খলা ও ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন।
এই অধিবেশন শুরু হলে সংসদে নতুন আইন প্রণয়ন, পূর্ববর্তী নীতিমালা পর্যালোচনা এবং সরকারের কার্যক্রমের পর্যালোচনা চলবে। বিশেষ করে দেশের অর্থনৈতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক অগ্রগতিতে সংসদের ভূমিকা আরও দৃঢ় হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধ পরিদর্শন এবং শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে উপস্থিত কর্মকর্তারা বলেন, এটি দেশের মুক্তি সংগ্রামের ইতিহাস এবং বর্তমান প্রজন্মের দায়িত্বের প্রতি সচেতনতা বৃদ্ধির সুযোগ। তারা আরও উল্লেখ করেন, সংসদকে কার্যকরভাবে পরিচালনা করা দেশের সব সমস্যার সমাধানে সহায়ক হবে।