জাতীয় ডেস্ক
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন রোববার (৮ মার্চ) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক নারী দিবসের আলোচনা সভায় বলেন, অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়া নারীদের ক্ষমতায়নের জন্য সরকার ফ্যামিলি কার্ডের উদ্যোগ নিয়েছে। তিনি বলেন, নারীর উন্নয়ন ও ক্ষমতায়ন ছাড়া জাতীয় অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।
আলোচনা সভায় রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন উল্লেখ করেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া নারীর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের জন্য যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন। বর্তমান সরকারও স্নাতকোত্তর পর্যায়ের শিক্ষার জন্য অবৈতনিক শিক্ষার পরিকল্পনা প্রণয়ন করেছে। তিনি তরুণ প্রজন্মকে সমতার মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান এবং বলেন, নারীর অধিকার সুনিশ্চিত করতে সমাজের প্রতিটি স্তরে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি পরিবারের অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং নারীর ক্ষমতায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এই কর্মসূচির মাধ্যমে নারী ও পরিবারের মধ্যে অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা এবং সামাজিক অংশগ্রহণ বৃদ্ধি পাবে।
আলোচনা সভার অংশ হিসেবে অদম্য নারী পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জন্য মরণোত্তর পুরস্কার প্রদান করেন। খালেদা জিয়ার পক্ষে তার নাতনি ব্যারিস্টার জাইমা রহমান পুরস্কার গ্রহণ করেন। এছাড়াও, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার নারীকে বিভিন্ন বিভাগে পুরস্কৃত করা হয়। মোট ৩৯ জন নারীর মধ্যে ৫ জন নারী বিশেষ সম্মাননায় ভূষিত হন।
ডা. জুবাইদা রহমান নারী দিবস উপলক্ষে বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার দৃঢ়তা এবং নেতৃত্ব নারীর শক্তি উদ্ভাবনের দিকনির্দেশনা প্রদান করে। তিনি সততা, মর্যাদা এবং সামাজিক ন্যায়বিচারের জন্য নারীদের অঙ্গীকারে অবদান রাখার আহ্বান জানান।
মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন সভায় উল্লেখ করেন, বেগম খালেদা জিয়া নারী শিক্ষায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছিলেন, যা ধারাবাহিকভাবে বর্তমান সরকারের কার্যক্রমের সঙ্গে সংযুক্ত। তিনি বলেন, সরকার অন্তর্ভুক্তিমূলক ও গণতান্ত্রিক দৃষ্টিকোণ থেকে নারীর উন্নয়ন ও ক্ষমতায়নে কাজ করছে।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শ্রেণি ও পেশার সহস্রাধিক নারী অংশ নেন। আলোচনা ও পুরস্কার প্রদানের মাধ্যমে নারীর রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষমতায়ন বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি করা হয়েছে। সভায় নারী শিক্ষার প্রসার, অর্থনৈতিক অংশগ্রহণ এবং নেতৃত্বের ক্ষেত্রে সমান সুযোগ সৃষ্টির গুরুত্ব বিশেষভাবে তুলে ধরা হয়।