জাতীয় ডেস্ক
সরকারের নতুন ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির বিস্তারিত তুলে ধরতে আগামী সোমবার (৯ মার্চ) রাজধানীতে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত এই সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত থাকবেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, যারা কর্মসূচির কার্যক্রম এবং সুবিধাভোগী বাছাই প্রক্রিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত জানাবেন। সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে সকাল ১১টায় অর্থ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে।
সরকারি সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, প্রথম পর্যায়ে দেশের ১৪টি উপজেলার একটি করে ইউনিয়নে পরীক্ষামূলকভাবে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি চালু করা হবে। নির্বাচিত ইউনিয়নের নির্দিষ্ট ওয়ার্ডে সুবিধাভোগী পরিবার চিহ্নিত করার প্রক্রিয়া ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে। বাছাই প্রক্রিয়ায় পরিবারের সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবস্থার উপর ভিত্তি করে সুবিধাভোগী নির্ধারণ করা হবে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী ১০ মার্চ রাজধানীর কড়াইল এলাকায় আনুষ্ঠানিকভাবে কর্মসূচির উদ্বোধন করা হবে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে নির্বাচিত সুবিধাভোগী নারীদের হাতে কার্ড বিতরণ করা হবে। এই কার্ডের মাধ্যমে পরিবারের প্রধান নারী সদস্যরা মাসিক আড়াই হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা পাবেন।
সমাজকল্যাণ মন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন জানান, এই কর্মসূচির লক্ষ্য দরিদ্র ও নিম্নবিত্ত পরিবারের আর্থিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা। তিনি আরও উল্লেখ করেন, সুবিধা প্রদানে কোনো রাজনৈতিক পরিচয়, ধর্ম বা বর্ণ বিবেচনা করা হবে না এবং পুরো প্রক্রিয়াটি সরকারি নিয়মনীতি অনুযায়ী স্বচ্ছভাবে বাস্তবায়ন করা হবে।
ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি মূলত সামাজিক নিরাপত্তা সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে আনা হয়েছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে সুবিধাভোগী নারীরা পরিবারিক ও সামাজিক জীবনে আরও স্বনির্ভর হয়ে উঠতে পারবেন। সরকারি কর্মকর্তাদের মতে, কর্মসূচির পরীক্ষামূলক ধাপ সফল হলে তা ধীরে ধীরে দেশের অন্যান্য অঞ্চলেও সম্প্রসারিত করা হবে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই ধরনের সরাসরি আর্থিক সহায়তা দরিদ্র পরিবারের জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। নারীদের আর্থিক ক্ষমতায়নের মাধ্যমে পরিবারের শিক্ষাগত, স্বাস্থ্যসেবা ও সামাজিক উন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
সরকার আরও জানিয়েছে, কর্মসূচি বাস্তবায়নের সময় সুবিধাভোগীদের তালিকা এবং কার্ড বিতরণের তথ্য ডিজিটালভাবে সংরক্ষণ করা হবে। এতে নিয়ন্ত্রণ, মনিটরিং এবং সুবিধাভোগীদের সঙ্গে কার্যক্রমের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। সরকারি কর্মকর্তারা আশা করছেন, এই উদ্যোগ দেশের সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে এবং নিম্নবিত্ত পরিবারের জন্য একটি স্থায়ী আর্থিক সহায়তার পথ সুগম করবে।
এই কর্মসূচি চালু হওয়ায় দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত পরিবারের নারীরা নিয়মিত আর্থিক সহায়তা পাবেন এবং এটি সরকারের সামাজিক নীতিমালার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেশের দুর্যোগ মোকাবিলা এবং দারিদ্র্য বিমোচনে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।