বাংলাদেশ ডেস্ক
নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে ছোট ফেনী নদীর ওপর প্রস্তাবিত মুছাপুর রেগুলেটর নির্মাণ প্রকল্পের সরেজমিন পরিদর্শনে আসছেন দুই মন্ত্রী। আগামী মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সকাল ১০টার পর বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু এবং পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার মুছাপুর রেগুলেটর এলাকা পরিদর্শন করবেন।
নোয়াখালী-৫ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ২০২৪ সালের ২৬ আগস্ট প্রবল বর্ষণ ও উজানের ঢলে মুছাপুরের ২৩ ভেন্টবিশিষ্ট রেগুলেটরটি ভেঙে গেলে কোম্পানীগঞ্জ, ফেনীর সোনাগাজী ও দাগনভূঁইয়া উপজেলায় ব্যাপক নদীভাঙন দেখা দেয়। ক্ষতিগ্রস্ত স্থানে নতুন রেগুলেটর নির্মাণের জন্য সরকার ৮৯৬ কোটি ৬১ লাখ টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) অনুমোদন মিললে প্রকল্পটির কাজ দ্রুত শুরু হবে। নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত স্থানীয়রা এ সময় দুই মন্ত্রীর মাধ্যমে তাদের বিভিন্ন দাবি সরকারের কাছে উপস্থাপন করবেন।
পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) প্রস্তাবিত “মুছাপুর রেগুলেটর নির্মাণসহ ছোট ফেনী ও বামনী নদী অববাহিকায় সমন্বিত বন্যা ও নদী ব্যবস্থাপনা এবং নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন” শীর্ষক প্রকল্পটি প্রায় ৮৯৬ কোটি ৬১ লাখ টাকায় বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটি চলতি মাস থেকে ২০৩০ সালের জুন পর্যন্ত মেয়াদে বাস্তবায়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
এর আগে, ২০০৫ সালে কোম্পানীগঞ্জ উপকূলে অব্যাহত নদীভাঙন ঠেকাতে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় নতুন ডাকাতিয়া ও পুরাতন ডাকাতিয়া-ছোট ফেনী নদীর পানি নিষ্কাশন প্রকল্প হাতে নেয়। ওই প্রকল্পের আওতায় ১৯ কোটি ৪৪ লাখ ৭৪ হাজার টাকা ব্যয়ে ২৩ ভেন্টবিশিষ্ট মুছাপুর রেগুলেটর নির্মাণ শুরু হয়। ২০০৫ সালের ৮ মার্চ সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া প্রকল্পটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।
রেগুলেটর নির্মাণ শেষে প্রতিটি ভেন্টে রেডিয়াল গেট ও ফ্ল্যাপ গেট স্থাপন করা হয়। এর পানি নিষ্কাশন ক্ষমতা ছিল ৭৫৬.১৫ ঘনমিটার প্রতি সেকেন্ড এবং পানিধারণ ক্ষমতা +৪.০০ মিটার পিডব্লিউডি।
নোয়াখালী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী এস.এম. রিফাত জামিলহয়া জানিয়েছেন, মন্ত্রীদ্বয় মুছাপুর রেগুলেটর এলাকা ছাড়াও নদীভাঙন প্রতিরোধে চলমান বামনী ক্লোজার এবং উড়িরচর ক্রসড্যাম নির্মাণ এলাকা পরিদর্শন করবেন। এর মাধ্যমে নদীভাঙন রোধ এবং স্থানীয় মানুষের জীবনযাত্রার স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে সরকারের প্রস্তুতি পর্যালোচনা করা হবে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ছোট ফেনী নদীর মতো উপকূলীয় নদীর বন্যা ও ভাঙন সমস্যা সমাধানে কার্যকর রেগুলেটর নির্মাণ গুরুত্বপূর্ণ। এটি স্থানীয় কৃষি জমি ও বসতি সংরক্ষণে সহায়তা করবে, পাশাপাশি ভবিষ্যতে প্রবল বন্যা ও তীব্র স্রোত নিয়ন্ত্রণে সহায়ক ভূমিকা রাখবে। স্থানীয় প্রশাসনও জানাচ্ছে, প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে কোম্পানীগঞ্জ, সোনাগাজী ও দাগনভূঁইয়া উপজেলায় নদীভাঙনের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে।
সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, নতুন মুছাপুর রেগুলেটরটি একাধিক ভেন্টে আধুনিক গেট ব্যবস্থা সংযোজন করে নদীর পানি নিষ্কাশন ও নিয়ন্ত্রণ সক্ষমতা বৃদ্ধি করবে। পাশাপাশি, বামনী ও ছোট ফেনী নদীর অববাহিকায় সমন্বিত বন্যা ও নদী ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে অঞ্চলের জলবায়ু ও আবহাওয়ার পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিরাপদ পানি ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা হবে।
উপজেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা আশা করছেন, প্রকল্প বাস্তবায়ন সম্পূর্ণ হলে স্থানীয় কৃষি, বসতি ও অবকাঠামো রক্ষা করা সম্ভব হবে এবং নদীভাঙনজনিত মানবিক ও অর্থনৈতিক ক্ষতি হ্রাস পাবে।