আন্তর্জাতিক ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ও দেশটির সেনাবাহিনীর প্রধান আসিম মুনির-এর প্রশংসা করে বলেছেন, পাকিস্তান বর্তমানে ‘অসাধারণভাবে ভালো’ করছে। শুক্রবার ওয়াশিংটনে হোয়াইট হাউসের সাউথ লনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, পাকিস্তানের নেতৃত্বে বর্তমানে শক্তিশালী ও কার্যকর নেতৃত্ব রয়েছে। তিনি মন্তব্য করেন, “আপনাদের একজন দারুণ প্রধানমন্ত্রী আছেন। সেখানে একজন দারুণ জেনারেল আছেন। একজন শক্তিশালী নেতা আছেন। তাঁদের দুজনকেই আমি খুবই সম্মান করি।” তাঁর এই বক্তব্যে পাকিস্তানের রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্বের প্রতি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির ইঙ্গিত পাওয়া যায়।
যুক্তরাষ্ট্র ও পাকিস্তানের সম্পর্ক অতীতে নানা উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে গেলেও সাম্প্রতিক সময়ে আঞ্চলিক নিরাপত্তা, সন্ত্রাসবাদ দমন এবং আফগানিস্তান ইস্যুতে দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। বিশেষ করে আফগানিস্তান পরিস্থিতি নিয়ে পাকিস্তানের ভূমিকা দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনার বিষয়।
পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যকার চলমান উত্তেজনা বা সম্ভাব্য সংঘাত প্রসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান জানতে চাইলে ট্রাম্প বলেন, প্রয়োজনে তিনি হস্তক্ষেপ করতে পারেন। তবে এ বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো পরিকল্পনা বা কৌশল তিনি প্রকাশ করেননি। তিনি আরও বলেন, পাকিস্তানের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ‘খুবই ভালো’। এই মন্তব্যকে বিশ্লেষকরা দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ বজায় রাখার বার্তা হিসেবে দেখছেন।
দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে পাকিস্তান একটি গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্র। আফগানিস্তানের সঙ্গে দীর্ঘ সীমান্ত, নিরাপত্তা ইস্যু এবং আঞ্চলিক জোট-রাজনীতির কারণে দেশটির ভূমিকা আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে তাৎপর্যপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক অবস্থান ও বক্তব্য এ অঞ্চলের শক্তির ভারসাম্যে প্রভাব ফেলতে পারে বলে পর্যবেক্ষকদের ধারণা।
ট্রাম্পের বক্তব্য এমন সময়ে এসেছে, যখন দক্ষিণ এশিয়ায় নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক সমীকরণ নতুন করে আলোচনায় রয়েছে। পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও সামরিক নেতৃত্বের ভূমিকা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রায়ই আলোচিত হয়। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের এ ধরনের প্রকাশ্য প্রশংসা ভবিষ্যতে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের গতিপ্রকৃতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
তবে যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক নীতিগত অবস্থান বা পররাষ্ট্র দপ্তরের বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া এ বিষয়ে প্রকাশিত হয়নি। ফলে ট্রাম্পের মন্তব্যকে আপাতত ব্যক্তিগত পর্যায়ের কূটনৈতিক বক্তব্য হিসেবেই দেখা হচ্ছে। দক্ষিণ এশিয়ার চলমান পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের সক্রিয় ভূমিকা থাকবে কি না, তা সময়ই নির্ধারণ করবে।