বাংলাদেশ ডেস্ক
২০২৬ সালের রমজান মাসে বাংলাদেশে ফিতরার সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ হার যথাক্রমে ১১০ টাকা এবং ২,৮০৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই ঘোষণা দিয়েছে জাতীয় সাদাকাতুল ফিতর নির্ধারণ কমিটি। গত বছরও (২০২৫) এই একই হার কার্যকর ছিল।
ফিতরার হার নির্ধারণের জন্য বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর বায়তুল মোকাররমে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সভাকক্ষে জাতীয় সাদাকাতুল ফিতর নির্ধারণ কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে ১৪৪৭ হিজরি সনের ফিতরার হার চূড়ান্তভাবে নির্ধারণ করা হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন কমিটির সভাপতি এবং বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব মুফতি মাওলানা আবদুল মালেক। বৈঠকে ফিতরা নির্ধারণ কমিটির অন্যান্য সদস্য এবং বিশিষ্ট আলেমরা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠক শেষে কমিটির সভাপতি সাংবাদিকদের সামনে ফিতরার নির্ধারিত হার ঘোষণা করেন।
জাতীয় সাদাকাতুল ফিতর নির্ধারণ কমিটির দায়িত্ব হলো প্রতিটি বছর রমজান মাসের আগে দেশের জন্য ফিতরার নির্ধারিত পরিমাণ নির্ধারণ করা। ফিতরা মূলত দরিদ্র ও অসহায় মানুষদেরকে সহায়তা করার উদ্দেশ্যে দেওয়ার একটি ইসলামিক বিধি। ফিতরার পরিমাণ ইসলামের মূল সূত্র অনুযায়ী খাদ্যদ্রব্য বা নগদ অর্থের মাধ্যমে নির্ধারিত হয়, যা দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও খাদ্যের বাজারদর বিবেচনা করে নির্ধারণ করা হয়।
কমিটির সভাপতি মুফতি আবদুল মালেক জানিয়েছেন, ফিতরার এই হার দেশের সাধারণ মানুষকে সাশ্রয়ীভাবে ফরজ দানের সুযোগ নিশ্চিত করবে। তিনি আরও জানান, ফিতরা নির্ধারণে দেশব্যাপী খাদ্যদ্রব্যের মূল্য ও জনগণের ক্রয়ক্ষমতা বিবেচনা করা হয়েছে।
বাংলাদেশে ফিতরার নির্ধারিত পরিমাণ প্রতি বছর ইসলামী ফাউন্ডেশন এবং আলেম সমাজের পরামর্শে চূড়ান্ত করা হয়। ফিতরার অর্থ সরাসরি অভাবী ও দুঃস্থদের মধ্যে বিতরণ করার জন্য ব্যবহার করা হয়, যা সামাজিক ন্যায্যতা ও দরিদ্রদের স্বাবলম্বিতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সঠিক ফিতরা নির্ধারণ করা দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য সহায়ক হওয়ার পাশাপাশি রমজানের সামাজিক ও ধর্মীয় দায়িত্ব সম্পূর্ণ করতে সাহায্য করে। এছাড়া এটি ইসলামিক সমাজে দানের সংস্কৃতি ও সহযোগিতার মূল্যবোধ বজায় রাখতেও ভূমিকা রাখে।
কমিটি সূত্রে জানা যায়, ফিতরা প্রদানের সময় মুসলিমরা তাদের পরিবারের সদস্যদের জন্য নির্ধারিত পরিমাণ অনুযায়ী ফিতরা প্রদান করবেন। ফিতরা দিতে সবচেয়ে উপযুক্ত সময় হলো রোজার শেষ দিন, ঈদুল ফিতরের আগে।