বাংলাদেশ ডেস্ক
দেশব্যাপী জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নয়ন ও নাগরিকদের জন্য সমন্বিত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ‘সুস্বাস্থ্যের বাংলাদেশ গঠন’ বিষয়ে এক বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার বেলা ৩টায় সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সভাকক্ষে আয়োজিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
সভায় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী সরদার মোঃ সাখাওয়াত হোসেন, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন, মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. নাসিমুল গনি এবং প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তারসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। জনস্বাস্থ্য খাতে চলমান কার্যক্রমের অগ্রগতি, ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা এবং সমন্বিত উদ্যোগ নিয়ে বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
সভা সূত্রে জানা যায়, দেশের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করা, গ্রামীণ ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য স্বাস্থ্যসেবা সহজলভ্য করা এবং সরকারি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে সেবার মান উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে চিকিৎসা অবকাঠামো সম্প্রসারণ, আধুনিক চিকিৎসা প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি এবং জনবল সংকট নিরসনের বিষয়েও আলোচনা হয়।
বাংলাদেশে গত কয়েক দশকে স্বাস্থ্য খাতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জিত হলেও এখনও বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ বিদ্যমান। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের স্বল্পতা, চিকিৎসা সরঞ্জামের ঘাটতি এবং জনসংখ্যার তুলনায় স্বাস্থ্যকেন্দ্রের সীমিত সক্ষমতা একটি বড় উদ্বেগের বিষয়। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সমন্বিত নীতিমালা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয় বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।
সভায় প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবার ওপর জোর দেওয়া হয়। সংক্রামক ও অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধি, নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, পুষ্টি কর্মসূচি জোরদার এবং টিকাদান কার্যক্রম সম্প্রসারণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি মাতৃ ও শিশুস্বাস্থ্য সুরক্ষা, কিশোর-কিশোরীদের স্বাস্থ্যসেবা এবং প্রবীণ জনগোষ্ঠীর জন্য বিশেষায়িত চিকিৎসা সুবিধা সম্প্রসারণের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।
ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার সম্প্রসারণ নিয়েও সভায় গুরুত্ব দেওয়া হয়। টেলিমেডিসিন সেবা শক্তিশালী করা, হাসপাতাল ব্যবস্থাপনায় ডিজিটাল ডেটা সংরক্ষণ এবং রোগী ব্যবস্থাপনা পদ্ধতিকে প্রযুক্তিনির্ভর করার পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এতে সেবা প্রদানে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এ ছাড়া স্বাস্থ্য খাতে বাজেট বরাদ্দের কার্যকর ব্যবহার, সরকারি ও বেসরকারি অংশীদারিত্বের মাধ্যমে অবকাঠামো উন্নয়ন এবং গবেষণা কার্যক্রম জোরদারের বিষয়েও মতামত বিনিময় হয়। স্বাস্থ্য খাতকে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করে এগিয়ে নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
সভা শেষে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোকে আলোচনার ভিত্তিতে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। সরকারের উচ্চপর্যায়ের এই বৈঠককে স্বাস্থ্য খাতের সার্বিক উন্নয়নের একটি ধারাবাহিক উদ্যোগ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।