শিক্ষা ডেস্ক
শিক্ষকদের দাবি ও শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়নের জন্য সরকারের মনোযোগ অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্য জোটের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে এক ব্রিফিংয়ে তিনি এই তথ্য জানান।
মন্ত্রী বলেন, শিক্ষকদের মূল দাবি নিয়ে সঠিক সমাধান অনুসন্ধান করা হবে এবং তাদের আর রাজপথে এসে আন্দোলন করার প্রয়োজন হবে না। শিক্ষামন্ত্রণালয়কে প্রধানমন্ত্রী সর্বাধিক গুরুত্ব দিচ্ছেন, সেই প্রেক্ষাপটেই শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের সমস্যা সমাধানের দিকে মনোনিবেশ করা হচ্ছে। তিনি যোগ করেন, শিক্ষকদের শিক্ষার প্রতি দায়বদ্ধতার বিষয়টি স্পষ্ট করতে হবে এবং শুধুমাত্র সমস্যা দেখার দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বের হতে হবে।
ঈদ বোনাসের বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী জানান, বছরের বাজেটে ১০০ শতাংশ ঈদ বোনাসের কোনো উল্লেখ থাকায় এই দাবিটি পর্যালোচনা করা হবে। সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়া অনুযায়ী বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর কাছে উত্থাপন করা হবে। তিনি বলেন, সরকারের নীতি অনুযায়ী বৈধ প্রক্রিয়া ও বাজেট সীমার মধ্যে বোনাস বিষয়ক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।
এছাড়া, দেশের ৬৪ জেলায় দুর্নীতির অভিযোগ প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী হিসেবে তিনি শপথবদ্ধ যে কোনো ধরনের দুর্নীতি করবেন না এবং অন্য কাউকেই তা করতে দেবেন না। তিনি পুনরায় উল্লেখ করেন, সরকারি কর্মকর্তাদের সততা ও দায়িত্বশীলতার ওপর জোর দেওয়া হবে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, শিক্ষকদের সঙ্গে নিয়মিত সংলাপের মাধ্যমে তাদের দাবির বাস্তবায়ন এবং শিক্ষাব্যবস্থার মানোন্নয়নের জন্য মন্ত্রণালয়ের এমন পদক্ষেপ শিক্ষাক্ষেত্রে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। শিক্ষামন্ত্রণালয় এবং শিক্ষক সংস্থাগুলোর মধ্যে সংলাপ বৃদ্ধি পেলে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা পরিবেশে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে এবং শিক্ষক আন্দোলন থেকে উত্তরণের সুযোগ তৈরি হবে।
এবারের বাজেটে বোনাস বিষয়ক স্পষ্ট নির্দেশনা না থাকা সত্ত্বেও সরকারের পর্যবেক্ষণ ও প্রস্তাবিত সমন্বয় প্রক্রিয়া শিক্ষক-শ্রমিকদের আর্থিক স্বার্থ নিশ্চিত করতে সহায়ক হিসেবে কাজ করতে পারে। একই সঙ্গে দুর্নীতি প্রতিরোধ ও স্বচ্ছতা বৃদ্ধির প্রতিশ্রুতি সরকারের সাধারণ নীতি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখবে।
শিক্ষকদের সঙ্গে মতবিনিময় ও তাদের সমস্যা সমাধানের প্রক্রিয়া চলমান থাকায় শিক্ষাক্ষেত্রে সমন্বয় ও নীতি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে ভবিষ্যতে স্থিতিশীলতার সম্ভাবনা বৃদ্ধি পাবে।