রাজনীতি ডেস্ক
মালয়েশিয়ায় চিকিৎসাধীন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী মির্জা আব্বাসের শারীরিক অবস্থার উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে। দীর্ঘ চিকিৎসা ও মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচারের পর বর্তমানে তিনি অনেকটা সুস্থ বোধ করছেন। সবকিছু ঠিক থাকলে আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহার আগেই তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনা করছে তার পরিবার।
গতকাল সোমবার বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান মির্জা আব্বাসের সর্বশেষ শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে গণমাধ্যমকে অবহিত করেন। তিনি জানান, চিকিৎসকদের পরামর্শ ও পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী মির্জা আব্বাস এখন সীমিত সময়ের জন্য আত্মীয়-স্বজন ও পরিচিতজনদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে পারছেন। তার শারীরিক অবস্থার এই ইতিবাচক পরিবর্তন পরিবারের সদস্যদের আশাবাদী করে তুলেছে।
গত ১১ মার্চ রাজধানী ঢাকায় অবস্থানকালে মির্জা আব্বাস গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে দ্রুত এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখার পর তার মস্তিষ্কে একটি জটিল অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়। প্রাথমিক পর্যায়ে ঢাকায় চিকিৎসা চললেও পরবর্তীতে উন্নত ও বিশেষায়িত চিকিৎসার প্রয়োজনে তাকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়েছিল। সিঙ্গাপুরে চিকিৎসার একটি পর্যায় শেষ হওয়ার পর উন্নত পুনর্বাসন ও ফলোআপ চিকিৎসার জন্য তাকে মালয়েশিয়ায় স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে তিনি সেখানেই অবস্থান করছেন।
শায়রুল কবির খান আরও জানান, মির্জা আব্বাসের পরিবার চাচ্ছে তিনি যেন ঈদুল আজহার আনন্দ দেশে স্বজনদের সাথেই কাটাতে পারেন। তবে এই প্রত্যাশা পুরোপুরি নির্ভর করছে তার মেডিকেল বোর্ডের সিদ্ধান্তের ওপর। চিকিৎসকরা যদি দীর্ঘ আকাশপথ ভ্রমণের অনুমতি প্রদান করেন, তবেই তাকে দেশে ফিরিয়ে আনা হবে। বর্তমানে তিনি মালয়েশিয়ার বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের নিয়মিত তত্ত্বাবধানে রয়েছেন।
দেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপির নীতিনির্ধারণী ফোরামের এই প্রবীণ নেতার অসুস্থতার খবরে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছিল। বিশেষ করে গত কয়েক মাস তার উন্নত চিকিৎসার প্রক্রিয়া নিয়ে রাজনৈতিক মহলেও আলোচনা ছিল। তার অনুপস্থিতিতে দলের সাংগঠনিক কার্যক্রমে যে শূন্যতা তৈরি হয়েছে, সুস্থ হয়ে ফেরার মাধ্যমে তা পূরণ হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায়, মস্তিষ্কের অস্ত্রোপচারের পর রোগীর পূর্ণ সুস্থতা এবং স্বাভাবিক কার্যক্রমে ফেরার প্রক্রিয়াটি বেশ দীর্ঘ ও সংবেদনশীল। মির্জা আব্বাসের ক্ষেত্রেও চিকিৎসকরা পর্যায়ক্রমিক উন্নতির ওপর জোর দিচ্ছেন। বর্তমান পরিস্থিতির ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে এবং শারীরিক প্যারামিটারগুলো স্থিতিশীল থাকলে জুন মাসের মাঝামাঝি নাগাদ তার স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের সম্ভাবনা প্রবল।