নিজস্ব প্রতিবেদক
আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে ঘরমুখো মানুষের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে এবং সড়কে বিশৃঙ্খলা ও যানজট নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। বাসস্ট্যান্ড থেকে টিকিট কেটে যাতায়াত না করার প্রবণতা এবং যত্রতত্র যাত্রী তোলাকে সড়ক দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত করে পরিস্থিতি মোকাবিলায় দেশজুড়ে ৬৯টি ভ্রাম্যমাণ আদালত (মোবাইল কোর্ট) পরিচালনার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (১১ মে) সচিবালয়ে ঈদযাত্রা সংক্রান্ত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক শেষে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম সাংবাদিকদের এসব সিদ্ধান্তের কথা জানান। মন্ত্রী জানান, ঈদযাত্রায় যাত্রীচাপ ব্যবস্থাপনা এবং সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য।
বিগত বছরগুলোর অভিজ্ঞতা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, অতীতে ধাপে ধাপে ছুটির পরিকল্পনা থাকলেও তা পুরোপুরি কার্যকর না হওয়ায় নির্দিষ্ট দিনে রাস্তায় বিপুল সংখ্যক মানুষের চাপ তৈরি হয়। বিশেষ করে গাজীপুর ও এর আশপাশের শিল্পাঞ্চলগুলোতে একদিনেই প্রায় ১০ থেকে ১৫ লাখ যাত্রীর চাপের সৃষ্টি হয়েছিল, যা সড়ক ব্যবস্থাপনাকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দেয়। এই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার পোশাক কারখানাগুলোতে তিন থেকে চার ধাপে ছুটি দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। তৈরি পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠনগুলো এই প্রস্তাবে সম্মতি প্রদান করেছে, যা কার্যকর হলে মহাসড়কে যাত্রী ও যানবাহনের সুষম বণ্টন সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
আবহাওয়া ও পশুবাহী যানবাহনের প্রভাব সম্পর্কে উদ্বেগ প্রকাশ করে শেখ রবিউল আলম বলেন, এবারের ঈদযাত্রায় বৈরী আবহাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বৃষ্টির কারণে রাস্তা পিচ্ছিল হওয়া বা ধীরগতির কারণে যানজট তীব্র হতে পারে। বিশেষ করে কোরবানির ঈদ হওয়ায় পশুবাহী যানবাহনের আধিক্য থাকবে, যা গতি কমিয়ে দিতে পারে। প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যে পর্যাপ্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন এবং তাদের দায়িত্ব পালন করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। পরিস্থিতি সামাল দিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে বিশেষ নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।
নৌপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও নেওয়া হয়েছে কঠোর ব্যবস্থা। মন্ত্রী জানান, সদরঘাট এলাকায় নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে স্পিডবোট বা ছোট কোনো নৌযান থেকে সরাসরি লঞ্চে যাত্রী ওঠা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এছাড়া ফেরি পারাপারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে নতুন নিয়ম প্রবর্তন করা হয়েছে। এখন থেকে ফেরিতে ওঠার আগে বাসের সকল যাত্রীকে বাধ্যতামূলকভাবে নেমে যেতে হবে। কোনো বাস যাত্রীসহ ফেরিতে প্রবেশ করতে পারবে না। এই নিয়ম কঠোরভাবে পরিপালন করতে ফেরিঘাটগুলোতে ব্যারিকেড বসানো হবে।
পরিবহন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ভ্রাম্যমাণ আদালতের সক্রিয়তা এবং ধাপে ধাপে ছুটির বাস্তবায়ন কার্যকর হলে মহাসড়কের শৃঙ্খলা ফিরবে। তবে পশুবাহী ট্রাক ও বৃষ্টির প্রভাব মোকাবিলায় হাইওয়ে পুলিশের পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বয় অত্যন্ত জরুরি। সরকারের এই বহুমুখী পরিকল্পনা যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হলে সাধারণ মানুষের ঈদযাত্রা গত বছরের তুলনায় অপেক্ষাকৃত স্বস্তিদায়ক ও নিরাপদ হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।