অর্থ বাণিজ্য ডেস্ক
দেশের পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বেসরকারি খাতের শীর্ষস্থানীয় ব্র্যাক ব্যাংক পিএলসির ৭০০ কোটি টাকার দ্বিতীয় সাব-অর্ডিনেটেড বন্ডের লেনদেন শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার (১২ মে) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) অল্টারনেটিভ ট্রেডিং বোর্ডের (এটিবি) লেনদেন প্ল্যাটফর্মে বন্ডটি আনুষ্ঠানিকভাবে তালিকাভুক্ত হয়ে লেনদেনে অংশ নেয়। প্রথম কার্যদিবসে বন্ডটির বাজার মূল্যে কিছুটা সংশোধন লক্ষ করা গেছে। বন্ডটির ট্রেডিং কোড ‘BBL2NDSB’ এবং স্ক্রিপ কোড ‘55008’ হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে।
বাজার পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, লেনদেনের শুরুতে বন্ডটির প্রতি ইউনিটের বাজার মূল্য ছিল ১০ লাখ ৫৬১ টাকা। তবে বেলা ১২টা পর্যন্ত তিন দফায় মোট ১০টি ইউনিট হাতবদল হওয়ায় প্রতিটি ইউনিটের মূল্য ৫৬১ টাকা কমে ১০ লাখ টাকায় এসে দাঁড়ায়। লেনদেনের জন্য বন্ডটি ‘পি’ ক্যাটাগরিভুক্ত করা হয়েছে। বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষায় এবং বাজার স্থিতিশীল রাখতে লেনদেনের প্রথম দুই কার্যদিবসের জন্য বিশেষ সার্কিট ব্রেকার ব্যবস্থা আরোপ করা হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী, প্রথম দিন বার্ষিক ১০ শতাংশ ডিসকাউন্ট রেটে নির্ধারিত বর্তমান মূল্যের ওপর ৪ শতাংশ সার্কিট ব্রেকার কার্যকর ছিল। চতুর্থ কার্যদিবস থেকে এটি নিয়মিত ৫ শতাংশ হারে কার্যকর হবে।
ব্র্যাক ব্যাংক পিএলসি এই বন্ডের ইস্যুকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করছে। বন্ডটির প্রতিটি ইউনিটের অভিহিত মূল্য (Face Value) নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ লাখ টাকা। বন্ডটির মোট ইস্যু আকার ৭০০ কোটি টাকা, যা ডিএসইতে লেনদেনের জন্য অনুমোদিত। ২০২৪ সালের ১১ মার্চ বন্ডটির ইস্যু কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছিল এবং বর্তমানে এর অবশিষ্ট মেয়াদ রয়েছে ৪ বছর ১০ মাস। বন্ডটি মূলত নন-কনভার্টিবল (অপরিবর্তনযোগ্য), সম্পূর্ণ রিডিমেবল (পরিশোধযোগ্য), ফ্লোটিং রেট ও আনসিকিউরড প্রকৃতির। অর্থাৎ এটি সাধারণ শেয়ারে রূপান্তরযোগ্য নয় এবং নির্দিষ্ট মেয়াদ শেষে ব্যাংক বিনিয়োগকারীদের মূল অর্থ ফেরত প্রদান করবে।
বিনিয়োগকারীদের জন্য এই বন্ডের কুপন হার নির্ধারণ করা হয়েছে বার্ষিক ১২ দশমিক ৫৯ শতাংশ। এই উচ্চ মুনাফার অর্থ প্রতি ছয় মাস অন্তর কুপন হিসেবে বিনিয়োগকারীদের ব্যাংক হিসাবে প্রদান করা হবে। বন্ডটির পরিশোধ বা রিডেম্পশন প্রক্রিয়া বার্ষিক ভিত্তিতে পরিচালিত হবে। ইস্যুর তারিখ থেকে তৃতীয় বছর শেষে, অর্থাৎ ২০২৭ সালের ১১ মার্চ থেকে পর্যায়ক্রমে মূল অর্থ পরিশোধের কার্যক্রম শুরু হবে। প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী এবং উচ্চ সম্পদশালী ব্যক্তিদের লক্ষ্য করে এই বন্ডের ন্যূনতম বিনিয়োগের সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ লাখ টাকা।
পুঁজিবাজার বিশ্লেষকদের মতে, ব্র্যাক ব্যাংকের এই বড় অংকের বন্ডের তালিকাভুক্তি দেশের বন্ড মার্কেটের গভীরতা বাড়াতে সহায়ক হবে। সাধারণত ব্যাংকগুলো তাদের টায়ার-২ মূলধন ভিত্তি শক্তিশালী করার লক্ষ্যে এ ধরনের সাব-অর্ডিনেটেড বন্ড ইস্যু করে থাকে। এতে ব্যাংকের মূলধন পর্যাপ্ততা অনুপাত (CAR) উন্নত হয় এবং ঋণ প্রদানের সক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। অন্যদিকে, ফ্লোটিং রেট এবং উচ্চ মুনাফার সুযোগ থাকায় বিনিয়োগকারীদের কাছে এটি একটি নিরাপদ ও লাভজনক বিনিয়োগের বিকল্প হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিশেষ করে প্রচলিত ব্যাংকিং সুদের হারের তুলনায় কুপন হার ১২ শতাংশের উপরে হওয়ায় বাজারে এটি ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।