রাজধানী ডেস্ক
রাজধানীর সড়কগুলোতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়নের লক্ষ্যে আগামী সপ্তাহ থেকে কঠোর অভিযানে নামছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। যেসব যানবাহনে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) নির্ধারিত ডিজিটাল রেজিস্ট্রেশন নম্বর প্লেট এবং আরএফআইডি (রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি আইডেন্টিফিকেশন) ট্যাগ নেই, তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। গত সোমবার (১১ মে) ডিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার স্বাক্ষরিত এক গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই কঠোর অবস্থানের কথা জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, মোটরযান আইন অনুযায়ী সরকার নির্ধারিত রং, নকশা ও মাপ অনুযায়ী নম্বর প্লেট ব্যবহার করা প্রতিটি যানবাহনের জন্য বাধ্যতামূলক। সাম্প্রতিক সময়ে লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে, অনেক যানবাহন মালিক বিআরটিএ সরবরাহকৃত ডিজিটাল নম্বর প্লেট ও আরএফআইডি ট্যাগ যথাযথভাবে ব্যবহার করছেন না। এর পরিবর্তে অনেক ক্ষেত্রে হাতে লেখা বা রং দিয়ে অঙ্কিত নম্বর প্লেট ব্যবহার করা হচ্ছে, যা প্রচলিত আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। ডিএমপি স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে, বিআরটিএ প্রদত্ত নির্ধারিত মানের বাইরে কোনো ধরনের অপেশাদার বা ভিন্নধর্মী নম্বর প্লেট ব্যবহার করা যাবে না।
ট্রাফিক বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, অনেক যানবাহন মালিক প্রয়োজনীয় ফি পরিশোধ করার পরও বিআরটিএ থেকে তাদের অনুকূলে বরাদ্দকৃত নম্বর প্লেট ও আরএফআইডি ট্যাগ সংগ্রহ করেননি। আবার অনেক ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, গাড়ির সামনের কাচে (উইন্ডশিল্ড) লাগানো আরএফআইডি ট্যাগটি অকার্যকর অবস্থায় রয়েছে। এই ট্যাগগুলো মূলত স্বয়ংক্রিয়ভাবে যানবাহনের তথ্য শনাক্ত করতে সহায়তা করে। এগুলো সঠিক অবস্থায় না থাকায় ডিজিটাল ট্রাফিক সিগন্যাল ও স্বয়ংক্রিয়ভাবে মামলা প্রদানের ক্ষেত্রে জটিলতা সৃষ্টি হচ্ছে। বিশেষ করে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে দ্রুত পালিয়ে যাওয়া যানবাহনকে শনাক্ত করা পুলিশের জন্য কঠিন হয়ে পড়ছে।
গণবিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, আগামী সাত দিন যানবাহন মালিকদের জন্য সচেতনতামূলক সময় হিসেবে গণ্য হবে। এরপর অর্থাৎ আগামী সপ্তাহ থেকে রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে পুলিশের বিশেষ অভিযান এবং ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হবে। অভিযানে কোনো যানবাহনে ত্রুটিপূর্ণ নম্বর প্লেট পাওয়া গেলে বা আরএফআইডি ট্যাগ অনুপস্থিত থাকলে সংশ্লিষ্ট মালিকের বিরুদ্ধে বড় অঙ্কের জরিমানা ও প্রয়োজনে মামলা দায়ের করা হবে। সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং ট্রাফিক আইন বাস্তবায়নে কোনো ধরনের শিথিলতা প্রদর্শন করা হবে না বলেও বিজ্ঞপ্তিতে সতর্ক করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আরএফআইডি ট্যাগ মূলত একটি ট্র্যাকিং সিস্টেমের অংশ হিসেবে কাজ করে। এটি সচল থাকলে গাড়িটি যখন কোনো নির্দিষ্ট চেকপোস্ট বা আরএফআইডি রিডার অতিক্রম করে, তখন স্বয়ংক্রিয়ভাবে ওই গাড়ির যাবতীয় তথ্য কেন্দ্রীয় সার্ভারে পৌঁছে যায়। এতে টোল আদায় থেকে শুরু করে চুরি হওয়া গাড়ি শনাক্তকরণ এবং ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনকারীদের ট্র্যাকিং করা সহজ হয়। আধুনিক নগর ব্যবস্থাপনায় এই প্রযুক্তির ব্যবহার অপরিহার্য। কিন্তু রক্ষণাবেক্ষণের অভাব বা সচেতনতার অভাবে অনেক চালক এটি উপেক্ষা করেন, যা সামগ্রিক নিরাপত্তার জন্য হুমকি।
ডিএমপির এই পদক্ষেপ মূলত রাজধানীর যানজট নিরসন এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার একটি অংশ। নগরবাসীকে ট্রাফিক আইন মেনে চলতে এবং অবিলম্বে বিআরটিএ থেকে ডিজিটাল নম্বর প্লেট ও ট্যাগ সংগ্রহ করে তা যথাস্থানে স্থাপনের অনুরোধ জানানো হয়েছে। আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এই কঠোর অবস্থান দীর্ঘমেয়াদে ঢাকার সড়কগুলোকে আরও সুশৃঙ্খল এবং নিরাপদ করে তুলবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।