বিনোদন ডেস্ক
নেদারল্যান্ডসের পর এবার অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনায় অনুষ্ঠিতব্য ‘রেড লোটাস এশিয়ান ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল ভিয়েনা ২০২৬’-এ প্রদর্শিত হতে যাচ্ছে বাংলাদেশি চলচ্চিত্র ‘দেলুপি’। আগামী ২৩ এপ্রিল শুরু হয়ে ২৬ এপ্রিল পর্যন্ত চলা এই আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে সিনেমাটি আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচিত হয়েছে। উৎসবের অংশ হিসেবে ২৫ এপ্রিল স্থানীয় সময় দুপুর দেড়টায় ভিয়েনার ঐতিহ্যবাহী স্ট্যাটকিনো থিয়েটারে সিনেমাটির প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
চলচ্চিত্রটির নির্মাতা মোহাম্মদ তাওকীর ইসলাম জানান, ইউরোপের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এশীয় চলচ্চিত্র উৎসবে অংশগ্রহণের সুযোগ পাওয়া বাংলাদেশের চলচ্চিত্র শিল্পের জন্য একটি তাৎপর্যপূর্ণ অর্জন। এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক দর্শকদের সামনে দেশের সমকালীন সামাজিক বাস্তবতা তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এর আগে, ২০২৬ সালের শুরুতে নেদারল্যান্ডসে অনুষ্ঠিত ৫৫তম ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল রটারড্যামে ‘দেলুপি’ প্রদর্শিত হয়। সেখানে সিনেমাটি দর্শক ও সমালোচকদের কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া পায়। ভিয়েনার এই উৎসবকে ইউরোপে সিনেমাটির দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ অংশগ্রহণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
চলচ্চিত্রটির বিষয়বস্তু বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল, বিশেষ করে খুলনা অঞ্চলের বাস্তবতা ঘিরে নির্মিত। এতে নদীভাঙন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এবং স্থানীয় রাজনীতিতে জাতীয় পর্যায়ের প্রভাবের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরা হয়েছে। গ্রামীণ জীবনের সংগ্রাম, প্রান্তিক মানুষের টিকে থাকার লড়াই এবং সামাজিক পরিবর্তনের চিত্র সিনেমাটির মূল উপজীব্য।
‘দেলুপি’ চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন চিরঞ্জিৎ বিশ্বাস, অদিতি রায়, রুদ্র রায় এবং জাকির হোসেনসহ আরও অনেকে। তাদের অভিনয়ের মাধ্যমে আঞ্চলিক ভাষা ও সংস্কৃতির স্বতন্ত্রতা ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
ফুটপ্রিন্ট ফিল্ম প্রোডাকশনের ব্যানারে নির্মিত এই চলচ্চিত্রটি ২০২৫ সালের ৭ নভেম্বর খুলনার প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায়। পরবর্তীতে ঢাকাসহ দেশের অন্যান্য অঞ্চলেও এটি প্রদর্শিত হয় এবং দর্শকদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি করে। দেশের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির পর আন্তর্জাতিক উৎসবে অংশগ্রহণের মাধ্যমে সিনেমাটি ধীরে ধীরে বৈশ্বিক দর্শকদের কাছেও পৌঁছাতে শুরু করেছে।
‘দেলুপি’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে পরিচালক হিসেবে বড় পর্দায় অভিষেক ঘটে মোহাম্মদ তাওকীর ইসলামের। এর আগে তিনি ওটিটি প্ল্যাটফর্মের জন্য একাধিক কনটেন্ট নির্মাণের মাধ্যমে পরিচিতি লাভ করেন। তার নির্মিত কাজগুলোতে সমকালীন সামাজিক বাস্তবতা এবং প্রান্তিক মানুষের জীবনচিত্র তুলে ধরার প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়।
বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবগুলোতে বাংলাদেশি চলচ্চিত্রের অংশগ্রহণ দেশের চলচ্চিত্র শিল্পের জন্য ইতিবাচক বার্তা বহন করে। এর মাধ্যমে দেশীয় নির্মাতারা বৈশ্বিক প্ল্যাটফর্মে নিজেদের সৃজনশীলতা তুলে ধরার সুযোগ পাচ্ছেন এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার সম্ভাবনাও বাড়ছে। ‘দেলুপি’র মতো চলচ্চিত্রের ধারাবাহিক অংশগ্রহণ ভবিষ্যতে বাংলাদেশি সিনেমার বৈশ্বিক উপস্থিতি আরও জোরদার করতে সহায়ক হতে পারে।