আইন আদালত ডেস্ক
জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। সোমবার (৬ এপ্রিল) দিবাগত রাত আনুমানিক সাড়ে ৪টার দিকে রাজধানীর ধানমন্ডির ৮/এ রোডের নিজ বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের পর তাকে মিন্টো রোডে ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) মো. শফিকুল ইসলাম গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পরে জানানো হবে। তবে কোন মামলার প্রেক্ষিতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলাসহ একাধিক অভিযোগ রয়েছে। ২০২৪ সালের ২৭ আগস্ট রংপুরে গুলিবিদ্ধ হয়ে স্বর্ণশ্রমিক মুসলিম উদ্দিন নিহত হওয়ার ঘটনায় দায়ের করা একটি হত্যা মামলায় তার নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়। ওই মামলায় সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশিসহ মোট ১৭ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলার অন্য আসামিদের মধ্যে কয়েকজনকে ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তারা কারাগারে রয়েছেন।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চলমান তদন্তের অংশ হিসেবেই এই গ্রেপ্তার কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে। তদন্তের অগ্রগতি ও প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বাংলাদেশের রাজনীতিতে একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত। তিনি রংপুর-৬ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে জাতীয় সংসদে প্রতিনিধিত্ব করেন। ২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনের পর আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করলে প্রথমে আবদুল হামিদ জাতীয় সংসদের স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে তিনি রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলে ২০১৩ সালের ৩০ এপ্রিল ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
এরপর ধারাবাহিকভাবে তিনি একাধিক মেয়াদে স্পিকারের দায়িত্ব পালন করেন এবং সংসদীয় কার্যক্রম পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। সর্বশেষ ২০২৪ সালের ৩০ জানুয়ারি দ্বাদশ জাতীয় সংসদের স্পিকার হিসেবে তিনি পুনরায় নির্বাচিত হন।
তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসে। সে সময় ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে প্রধানমন্ত্রী পদ থেকে শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে দেশ ত্যাগ করেন। পরবর্তীতে রাষ্ট্রপতি জাতীয় সংসদ ভেঙে দেন এবং ৮ আগস্ট একটি অন্তর্বর্তী সরকার শপথ গ্রহণ করে।
এই প্রেক্ষাপটে একই বছরের ২ সেপ্টেম্বর ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী দ্বাদশ জাতীয় সংসদের স্পিকারের পদ থেকে পদত্যাগ করেন। এরপর থেকে তিনি সক্রিয় রাজনৈতিক দায়িত্বে ছিলেন না বলে জানা গেছে।
ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর গ্রেপ্তারের ঘটনায় রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, বিষয়টি তদন্তাধীন থাকায় বিস্তারিত তথ্য পর্যায়ক্রমে জানানো হবে।