বাংলাদেশ ডেস্ক
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন আগামী ১২ মে অনুষ্ঠিত হবে এবং এ সংক্রান্ত তফসিল ৮ এপ্রিল ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। সোমবার (৬ এপ্রিল) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন ভবনে অনুষ্ঠিত কমিশন সভা শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ।
সভা শেষে তিনি বলেন, সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সম্পন্ন করতে কমিশন প্রস্তুতি নিচ্ছে। আইন অনুযায়ী, সাধারণ আসনের নির্বাচনের ফলাফলের সরকারি গেজেট প্রকাশের পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন সম্পন্ন করা বাধ্যতামূলক। গত ১৩ ফেব্রুয়ারি সাধারণ আসনের নির্বাচনের গেজেট প্রকাশিত হওয়ায় এই নির্বাচন সম্পন্নের সময়সীমা আগামী ১৪ মে পর্যন্ত রয়েছে। সে বিবেচনায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই নির্বাচন শেষ করার লক্ষ্যে ১২ মে ভোটগ্রহণের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের সভায় সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনসহ মোট পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আলোচনায় আসে। সংবিধান ও সংশ্লিষ্ট আইন অনুযায়ী, সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী রাজনৈতিক দলগুলো সাধারণ আসনে প্রাপ্ত আসনসংখ্যার অনুপাতে সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য প্রার্থী মনোনয়ন দেয়। এসব মনোনীত প্রার্থীদের মধ্য থেকেই ভোটের মাধ্যমে প্রতিনিধিরা নির্বাচিত হন। ইতোমধ্যে সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী রাজনৈতিক দলগুলো তাদের দলীয় ও জোটভিত্তিক তালিকা নির্বাচন কমিশনে জমা দিয়েছে।
সিনিয়র সচিব আরও জানান, একই সময়ে বগুড়া-৬ ও শেরপুর-৩ আসনের উপনির্বাচন নিয়েও কমিশন প্রস্তুতি নিচ্ছে। এই দুটি আসনের নির্বাচন ৯ মে অনুষ্ঠিত হবে এবং এ নির্বাচনকে গত ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনের মতোই গুরুত্ব দিয়ে আয়োজন করা হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বর্তমানে প্রায় ৫০টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এসব মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট আসনের নির্বাচনী সামগ্রী সংরক্ষণে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন। এ বিষয়ে তিনি জানান, নির্বাচনী সামগ্রী এক বছর পর্যন্ত সংরক্ষণ করা হবে, যাতে আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনে তা ব্যবহার করা যায়।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন সাধারণত সরাসরি ভোটারের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হয় না। সংসদ সদস্যরাই এ নির্বাচনে ভোটার হিসেবে অংশ নেন। ফলে নির্বাচন প্রক্রিয়াটি তুলনামূলকভাবে সংক্ষিপ্ত হলেও সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা ও রাজনৈতিক ভারসাম্য রক্ষার ক্ষেত্রে এর গুরুত্ব রয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের এই উদ্যোগের মাধ্যমে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন সম্পন্ন হলে সংসদের পূর্ণাঙ্গ কাঠামো গঠনে সহায়ক হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। পাশাপাশি বিচারাধীন মামলাগুলোর নিষ্পত্তি এবং নির্বাচনী সামগ্রী সংরক্ষণ সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত ভবিষ্যৎ আইনি প্রক্রিয়া নির্বিঘ্ন রাখতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।