অনলাইন ডেস্ক
অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল বলেছেন, তিনি বর্তমানে অধ্যাপনাজীবনে ফিরে গেছেন এবং মূলত গবেষণা ও সাহিত্যচর্চাকে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন। তিনি জানান, সরকারের সমালোচনা আগের তুলনায় সীমিত করবেন এবং সমালোচনা করার সময় আরও সতর্ক থাকবেন।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে অধ্যাপক আসিফ নজরুল বলেন, “বাইরে থেকে পরিস্থিতি খুব সরল মনে হতে পারে, কিন্তু প্রকৃতপক্ষে এটি অনেক জটিল এবং কঠিন।” তিনি জানান, অধ্যাপনাজীবনে ফিরে গবেষণার পাশাপাশি ভালো কিছু উপন্যাস লেখা তার লক্ষ্য।
মব জাস্টিস বা গণ-অভ্যুত্থান ঠেকানোর প্রয়াস নিয়ে করা এক প্রশ্নের জবাবে অধ্যাপক বলেন, সেই সময়ে যে ধরনের দৃঢ়তা এবং কঠোরতা প্রদর্শন করা প্রয়োজন ছিল, তা যথাযথভাবে দেখানো সম্ভব হয়নি। তিনি উল্লেখ করেন, গত জুলাই ও আগস্ট মাসে দেশের বিভিন্ন এলাকায় গণ-অভ্যুত্থানের পর পুলিশ বাহিনীর মনোবল নষ্ট হয়ে যাওয়া এবং প্রশাসনিক বিশৃঙ্খলার কারণে পরিস্থিতি প্রাথমিকভাবে নিয়ন্ত্রণে আনা কঠিন হয়ে পড়েছিল।
ধানমণ্ডি-৩২ নম্বরের বাড়ি ভাঙার ঘটনায় অন্তর্বর্তী সরকারের নীরবতার বিষয়ে অধ্যাপক স্বীকার করেন যে, এটি সরকারের একটি বড় ব্যর্থতা ছিল। তিনি জানান, আগস্টের ৫ থেকে ৮ তারিখ পর্যন্ত দেশে কোনো ধরণের ভাঙচুর হয়নি। তবে পরবর্তীতে কিছু উসকানিমূলক কার্যক্রমের কারণে এসব ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া, তিনি উল্লেখ করেন, তৎকালীন সময়ে রাজনৈতিক নেতাদের কিছু মন্তব্যও পরিস্থিতি উত্তপ্ত করতে সহায়ক ছিল।
অধ্যাপক আসিফ নজরুলের মন্তব্য থেকে বোঝা যায়, তিনি অতীত রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তগুলো পুনর্বিবেচনা করছেন এবং সমালোচনামূলক কর্মকাণ্ডে আরও সতর্কতার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে জোর দিয়েছেন। তিনি অধ্যাপনাজীবনের পাশাপাশি গবেষণা ও সাহিত্যচর্চাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার মাধ্যমে দেশের সামাজিক ও বৌদ্ধিক চেতনায় অবদান রাখার পরিকল্পনা করছেন।
তিনি আরও জানান, অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতে প্রশাসনিক ও আইনগত বিষয়ে আরও জ্ঞানচর্চা এবং বিশ্লেষণাত্মক কাজ করার লক্ষ্য রয়েছে, যা দেশের আইনি ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে।