ঢাকা — জেলা প্রতিনিধি
ঈদুল ফিতরের সরকারি ছুটির পর কর্মস্থলে ফেরার কারণে যমুনা সেতুতে যানবাহনের চাপ বৃদ্ধি পেয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সেতু থেকে গত এক দিনে আদায় হয়েছে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ টোল।
যমুনা সেতু কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার রাত ১২টা থেকে শুক্রবার রাত ১২টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় সেতুটি ব্যবহার করেছে মোট ৪৬,২৭৮টি যানবাহন। একই সময়ে টোল বাবদ আদায় হয়েছে ৩ কোটি ৪১ লাখ ৫৩ হাজার ৯০০ টাকা, যা সাম্প্রতিক সময়ে এক দিনের হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ সংগ্রহ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ঢাকামুখী চলাচল বিশেষভাবে বেড়ে গেছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঢাকামুখী পথে চলাচল করা ৩০,০৫৬টি যানবাহন থেকে টোল আদায় হয়েছে ১ কোটি ৯৮ লাখ ৪৩ হাজার ৯০০ টাকা। অপরদিকে উত্তরবঙ্গগামী ১৬,২২২টি যানবাহন থেকে এসেছে ১ কোটি ৪৩ লাখ ১০ হাজার ১০০ টাকা।
যমুনা সেতু সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ রিয়াজ উদ্দিন জানান, ঈদকালীন যাত্রা স্বাভাবিক রাখতে সেতুর দুই পাশে মোট ১৮টি টোল বুথ চালু রাখা হয়েছে। তিনি আরও জানান, মোটরসাইকেলের জন্য আলাদা ব্যবস্থা করা হয়েছে, যাতে যানবাহনের চলাচল গতি ব্যাহত না হয়।
সেতু এলাকায় সার্বক্ষণিক নজরদারি চলছে এবং যানবাহনের চাপ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। সেতু কর্তৃপক্ষের পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, প্রধানত সকাল ও সন্ধ্যার সময় ঢাকামুখী যানবাহনের সংখ্যা বেশি থাকে, যা প্রতিদিনের লেনদেনের মূল চাপের অংশ।
যমুনা সেতু বাংলাদেশের উত্তর ও দক্ষিণ অঞ্চলের মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ সড়ক। দেশের উত্তরাঞ্চল থেকে ঢাকায় আগত যাত্রী এবং মালামাল বহনের জন্য সেতুটি মূল ধারা হিসেবে বিবেচিত। তাই ঈদ, পূজা ও সরকারি ছুটির সময় অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ নিয়মিত লক্ষ্য করা যায়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধরনের চাপ মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা যেমন অতিরিক্ত লেন ও টোল বুথ সম্প্রসারণ, পাশাপাশি সেতুর প্রবেশপথে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ও প্রযুক্তিগত সমাধান গুরুত্বপূর্ণ। এটি যানবাহনের নিরাপদ ও দ্রুত চলাচল নিশ্চিত করতে সহায়ক।
যমুনা সেতু কর্তৃপক্ষ আশা করছে, চলমান নজরদারি ও ব্যবস্থা কার্যকর থাকায় যানবাহনের চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে এবং যাত্রীরা নিরাপদ ও সুবিধাজনক ভ্রমণ করতে পারবে।