রাজধানী ডেস্ক
পবিত্র ঈদুল ফিতরের দ্বিতীয় দিনে রাজধানী ঢাকার প্রধান সড়ক ও পাড়া-মহল্লাগুলোতে সাধারণের উল্লেখযোগ্য কম ভিড় দেখা গেছে। গত বছরের তুলনায় এবার শহরের ব্যস্ততম এলাকা মোহাম্মদপুর, ফার্মগেট, রামপুরা, বাড্ডা, মালিবাগ, শাহবাগ ও মিরপুরে যানজট এবং মানুষের কোলাহল অনেকটাই কম। স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, কলকারখানা ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান অধিকাংশই বন্ধ থাকায় শহরের নিত্য জীবনযাত্রায় এক শান্ত পরিবেশ বিরাজ করছে।
মোহাম্মদপুর এলাকার দোকানদার রুবেল মিয়া জানান, শনিবার রাস্তায় কিছু পরিমাণ মানুষ চলাচল করলেও রোববার সকালে সাধারণ মানুষের উপস্থিতি খুবই কম। তিনি বলেন, “ঢাকায় যারা আছেন, তারা নিতান্ত প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বের হচ্ছেন না।”
ফার্মগেট এলাকায় অটোরিকশা চালক হাসান আলী জানান, “ঈদের দিনে রাস্তায় মানুষের ভিড় ছিল বেশি, কিন্তু আজ অনেকটাই কম। ভাড়া কম হলেও যাত্রী পাওয়া যাচ্ছে না। আশা করছি দিনের বেলায় কিছু যাত্রী পাওয়া যাবে।”
বিশ্লেষকরা বলছেন, শহরের ব্যস্ততম এলাকা এবং প্রধান সড়কগুলোতে এই অস্বাভাবিক নীরবতার প্রধান কারণ হচ্ছে ঈদের ছুটি এবং অধিকাংশ মানুষ পারিবারিক মিলনমেলায় অংশগ্রহণের কারণে বাড়ি বা গ্রামে অবস্থান করছে। এছাড়া, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, অফিস এবং বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় শহরের ভ্রমণ প্রয়োজনীয়তা তুলনামূলকভাবে কমেছে।
ঢাকার পরিবহন ব্যবস্থা কর্মকর্তারা জানান, সকাল থেকে নগরীর প্রধান সড়কগুলোতে যানবাহনের চাপ সাধারণ দিনের তুলনায় অনেক কম। গণপরিবহনে যাত্রী সংখ্যা কম থাকায় স্বল্পসংখ্যক বাস এবং অটোরিকশা চলাচল করছে। এতে যানজটের প্রচলিত দৃশ্য কমে গেছে এবং শহরের বিভিন্ন এলাকায় স্বাভাবিকের তুলনায় দ্রুত যাতায়াত সম্ভব হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেন, ঈদুল ফিতরের মতো গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় ও সামাজিক উৎসবকালে শহরের এমন নীরবতা শহরের জীবনযাত্রার স্বাভাবিক ধারা এবং মানুষে স্বাস্থ্যকর সামাজিক আচরণের প্রতিফলন। নগর পরিবেশে কম যানজট এবং কম দূষণের কারণে শহরের বায়ু মান ও পরিবেশগত পরিস্থিতি স্বাভাবিকের তুলনায় কিছুটা উন্নত হতে পারে।
রাজধানীতে এই নীরবতার ফলে ব্যবসায়ী ও পরিবহন খাত কিছুটা প্রভাবিত হলেও, সাধারণ মানুষ পারিবারিক সময়ে শান্তি ও সুরক্ষা পাচ্ছে। নগরবাসী উৎসবকেন্দ্রিক যাতায়াত ও বিনোদনের পাশাপাশি স্বাস্থ্যবিধি এবং নিরাপত্তা বিষয়েও সতর্কতা অবলম্বন করছেন।