জাতীয় ডেস্ক
বগুড়ার আদমদীঘির সান্তাহার বাগবাড়ী এলাকায় চিলাহাটিগামী নীলসাগর এক্সপ্রেসের লাইনচ্যুত হওয়ার ২১ ঘণ্টা পর উত্তরাঞ্চলসহ দেশের সঙ্গে সারাদেশে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) দুপুর ১২টায় চিলাহাটির দিকে ছেড়ে আসা খুলনাগামী যাত্রীবাহী সীমান্ত এক্সপ্রেস ট্রেন দুর্ঘটনা কবলিত এলাকা দিয়ে পুনরায় চলাচল শুরু করেছে।
বুধবার (১৮ মার্চ) দুপুর আড়াইটার দিকে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনটি সান্তাহারের বাগবাড়ী এলাকায় লাইনচ্যুত হয়। দুর্ঘটনায় ট্রেনের নয়টি বগি লাইনচ্যুত হয়ে যায়। এ ঘটনায় সান্তাহার রেলওয়ে স্টেশনের সহকারী স্টেশন মাস্টার শহিদুল ইসলাম রঞ্জুকে দায়িত্ব অবহেলার কারণে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ চার সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।
রেলওয়ে পশ্চিম অঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক ফরিদ আহমেদ জানান, দুর্ঘটনার পর রাতভর উদ্ধার অভিযান পরিচালিত হয়েছে। ঈশ্বরদী থেকে একটি রিলিফ ট্রেন এবং পার্বতীপুর থেকে আরেকটি রিলিফ ট্রেন এসে ঘটনাস্থলে কাজ শুরু করে। সারারাত চলা উদ্ধার অভিযানে লাইনচ্যুত বগিগুলোকে সরিয়ে রেললাইনের পাশে রাখা হয়।
তিনি আরও জানান, বৃহস্পতিবার বেলা ১২টায় চিলাহাটির দিকে ছেড়ে আসা খুলনাগামী সীমান্ত এক্সপ্রেস দুর্ঘটনাস্থল দিয়ে যাত্রা শুরু করে। বর্তমানে লাইন নির্মাণ কাজ মোটামুটি স্বাভাবিক হলেও ট্রেনগুলো ধীর গতিতে চলাচল করছে। রেলওয়ে জানিয়েছে, নির্মাণ কাজ চলমান রয়েছে এবং যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে।
ঈদের আগ মুহূর্তে ঘটে যাওয়া এই দুর্ঘটনার জন্য রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ দেশবাসীর কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছে। তারা জানিয়েছে, দুর্ঘটনার কারণ ও দায়-দায়িত্ব নির্ধারণে গঠিত তদন্ত কমিটি কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, দুর্ঘটনার ফলে সাময়িকভাবে সারা দেশের সঙ্গে উত্তরাঞ্চলের ট্রেন যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়, যা যাত্রী পরিবহণে বিঘ্ন সৃষ্টি করেছিল। দ্রুত উদ্ধার ও মেরামতের মাধ্যমে শুক্রবারের যাত্রা প্রভাবিত হওয়া এড়ানো গেছে। রেল লাইনের এই ধরনের দুর্ঘটনা পূর্বাভাসহ প্রয়াসমূলক নজরদারি এবং রেল স্টেশনের কর্মী নিয়োগ ও দায়িত্ববোধের গুরুত্ব পুনরায়浮িয়ে দিয়েছে।
এ ঘটনায় দুর্ঘটনাস্থল ও আশেপাশের এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। রেলওয়ে কর্মকর্তারা বলছেন, ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে নিয়মিত রেললাইনের রক্ষণাবেক্ষণ ও স্টেশন কর্মীদের প্রশিক্ষণ আরও শক্তিশালী করা হবে।