রাজধানী ডেস্ক
পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের ২১ জেলায় ঘরমুখী যাত্রী ও যানবাহনের চাপ বেড়েছে, এবং এর ফলে পদ্মা সেতুর মাধ্যমে পারাপারের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সেতুর দুই প্রান্তে মোট ৪১ হাজার ৮৮৫টি যানবাহন পারাপার হয়েছে, যা থেকে টোল আদায় হয়েছে ৪ কোটি ৫৪ লাখ ৫ হাজার ২৫০ টাকা।
সেতু কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, গত মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১২টা থেকে বুধবার দিবাগত রাত ১২টা পর্যন্ত মাওয়া প্রান্ত দিয়ে ২৮ হাজার ৩৯০টি যানবাহন সেতু পার হয়েছে। এ প্রান্তে টোল আদায় হয়েছে ২ কোটি ৬৬ লাখ ৯৫ হাজার ৫৫০ টাকা। অপর দিকে জাজিরা প্রান্ত দিয়ে ১৩ হাজার ৪৯৫টি গাড়ি পারাপার হয়েছে, যেখানে টোল আদায় হয়েছে ১ কোটি ৮৭ লাখ ৯ হাজার ৭০০ টাকা।
সরাসরি পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, এক্সপ্রেসওয়েতে যানবাহনের চাপ বেশি থাকলেও হাইওয়ে পুলিশ ও সেতু কর্তৃপক্ষ শৃঙ্খলা বজায় রাখতে তৎপর রয়েছে। বিশেষ করে মোটরসাইকেলের জন্য আলাদা লেন থাকায় পারাপার তুলনামূলকভাবে দ্রুত ও নির্বিঘ্ন হচ্ছে। এছাড়া, দ্রুত টোল আদায় এবং সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনার কারণে যাত্রীরা স্বস্তিতে তাদের গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছেন।
পদ্মা সেতুর সাইড অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু সায়াদ জানিয়েছেন, সকাল থেকে যানজট ছাড়াই সব গাড়ি সেতু পার হচ্ছে। তিনি জানান, ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন রাখতে টোলপ্লাজায় অতিরিক্ত বুথ চালু করা হয়েছে এবং জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
বিশ্লেষকরা জানান, ঈদুল ফিতরের সময় দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা থেকে ঢাকাগামী যাত্রীরা সাধারণত পদ্মা সেতু ব্যবহার করেন, যার ফলে সেতুর ব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেতু কর্তৃপক্ষের পরিকল্পিত ব্যবস্থা এবং পুলিশি তৎপরতার কারণে বৃহৎ সংখ্যক যানবাহন সেতু পার হলেও ট্রাফিক শৃঙ্খলা বজায় রাখা সম্ভব হয়েছে।
পদ্মা সেতু ব্যবহার করে যাত্রী ও যানবাহনের পারাপার ঈদুল ফিতরের আগে ও পরে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের সঙ্গে রাজধানী ঢাকার সরাসরি সংযোগ নিশ্চিত করে, যা অর্থনৈতিক কার্যক্রম ও ভ্রমণ ব্যবস্থার জন্য গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে।