1. admin@deshmediabd.info : admin :
  2. support@bdsoftinc.info : adminr :
সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬, ০২:১৪ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদঃ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ অধিবেশন ২৯ মার্চ পর্যন্ত মুলতবি জাতীয় সংসদে সংবিধান সংশোধন ছাড়া “সংস্কার পরিষদ” গঠনের সুযোগ নেই দেশে ৯ হাজার ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগের উদ্যোগ গণভোটের রায় বাস্তবায়নে সংবিধান সংশোধন প্রয়োজন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ঈদ উপলক্ষে রাজধানীতে নিরাপত্তা জোরদার, টহল বৃদ্ধি: ডিএমপি কমিশনার জ্বালানি তেল বিক্রিতে আরোপিত সব বিধিনিষেধ প্রত্যাহার সংবিধান সংশোধন ছাড়া ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ বাস্তবায়ন সম্ভব নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মির্জা আব্বাস উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে প্রেরণ কৃষক কার্ড বিতরণ কর্মসূচি পয়লা বৈশাখে উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী এবি পার্টি আয়োজন করল মাহে রমজান ইফতার ও আলোচনা সভা

গণভোটের রায় বাস্তবায়নে সংবিধান সংশোধন প্রয়োজন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

রিপোর্টার
  • আপডেট : রবিবার, ১৫ মার্চ, ২০২৬
  • ৭ বার দেখা হয়েছে

জাতীয় ডেস্ক

গণভোটের রায় কার্যকর করতে হলে প্রথমে সংবিধানে প্রয়োজনীয় সংস্কার ও সংশোধন আনতে হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, বিদ্যমান আইনগত কাঠামো অনুযায়ী গণভোটের ফল বাস্তবায়নের আগে সংবিধানে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন না আনলে সেই রায় কার্যকর করা সম্ভব হবে না।

রোববার (১৫ মার্চ) সকাল ১১টায় জাতীয় সংসদের অধিবেশন শুরু হলে সংসদে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ। এ সময় তিনি গণভোটের প্রক্রিয়া, ব্যালটের কাঠামো এবং সংবিধান সংশোধনের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে বিস্তারিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সাধারণত গণভোটের ব্যালটে ‘হ্যাঁ’ ও ‘না’—এই দুটি বিকল্প থাকে। তবে সংশ্লিষ্ট গণভোটের ক্ষেত্রে একটি প্রশাসনিক আদেশের মাধ্যমে অতিরিক্ত চারটি প্রশ্ন যুক্ত করা হয়, যার ফলে ব্যালটের কাঠামো জটিল হয়ে ওঠে। তার মতে, ভোটারদের সামনে উপস্থাপিত ব্যালটটি পড়া ও বোঝার জন্য তুলনামূলক দীর্ঘ সময় প্রয়োজন হতে পারে। তিনি উল্লেখ করেন, চারটি আলাদা বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকলেও সেগুলোর জন্য পৃথকভাবে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়নি, যা গণভোট প্রক্রিয়ায় কিছু জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে।

তিনি আরও বলেন, গণভোট সম্পর্কিত কিছু বিষয় নিয়ে আদালতে রুল জারির খবর তিনি শুনেছেন। বিশেষ করে সংবিধান সংস্কার বাস্তবায়নের নির্দেশনা এবং গণভোটের নির্দিষ্ট কিছু অংশ অসাংবিধানিক ঘোষণার প্রশ্ন আদালতের বিবেচনায় আসতে পারে। এ বিষয়ে বিচার বিভাগ মতামত দিতে পারে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সংসদ দেশের সর্বোচ্চ আইন প্রণয়নকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে আইন প্রণয়নের ক্ষমতা রাখে। তবে আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে এমন কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত নয়, যা পরবর্তীতে আদালতে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে বাতিল বা অসাংবিধানিক ঘোষিত হতে পারে। সে কারণে আইন প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সাংবিধানিক সীমা এবং বিচার বিভাগের অবস্থান বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন বলে তিনি মত দেন।

তিনি জানান, গণভোটের রায় বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। তবে এ ধরনের কোনো উদ্যোগ গ্রহণের ক্ষেত্রে সাংবিধানিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করা আবশ্যক। তিনি বলেন, বর্তমান সংসদ সদস্যরা সাংবিধানিকভাবে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত হয়েছেন। সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন কমিশনের দায়িত্বের মধ্যে জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আয়োজন অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

গণভোট আয়োজনের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, গণভোট আয়োজনের জন্য দেশে পৃথক একটি আইন বিদ্যমান। রাজনৈতিক সমঝোতার ভিত্তিতে প্রণীত ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ বিষয়ে জনগণের মতামত যাচাই করার লক্ষ্যে গণভোট আয়োজনের ধারণা সামনে আসে। তিনি জানান, ওই সনদে জনগণের সমর্থন রয়েছে কি না তা নির্ধারণের উদ্দেশ্যে গণভোট অনুষ্ঠিত হয় এবং দীর্ঘ আলোচনার পর একদিনের মধ্যেই ভোটগ্রহণ সম্পন্ন করা হয়।

গণভোটের ব্যালট কাঠামো প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মূলত ‘হ্যাঁ’ ও ‘না’—এই দুটি উত্তরের সুযোগ রেখে ব্যালট প্রস্তুত করা হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে একটি প্রশাসনিক আদেশের মাধ্যমে অতিরিক্ত প্রশ্ন যুক্ত হওয়ায় চারটি আলাদা বিষয় নিয়ে ভোট গ্রহণের পরিস্থিতি তৈরি হয়। তবে এসব প্রশ্নের জন্য পৃথকভাবে উত্তর দেওয়ার ব্যবস্থা না থাকায় ভোটারদের সিদ্ধান্ত গ্রহণে কিছু জটিলতা দেখা দিতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, গণভোটে অন্তর্ভুক্ত কয়েকটি বিষয় নিয়ে রাজনৈতিক পর্যায়ে পূর্ণ সমঝোতা হয়নি। এর ফলে ব্যালটে অন্তর্ভুক্ত প্রশ্নগুলো নিয়ে বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনা ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। তার মতে, দীর্ঘ ও জটিল প্রশ্নসম্বলিত ব্যালট স্বল্প সময়ে বিশ্লেষণ করা ভোটারদের জন্য কঠিন হতে পারে।

তিনি পুনরায় উল্লেখ করেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বিদ্যমান আইন অনুযায়ী প্রথমে সংবিধানে সংশোধন আনা প্রয়োজন। সংসদ যদি সংশোধন প্রস্তাব গ্রহণ করে, তখনই গণভোটের ফল কার্যকর করার জন্য সাংবিধানিক পথ সুগম হবে। এরপর প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট পরিষদ বা কাঠামো গঠনের বিষয় বিবেচনা করা যেতে পারে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে যদি গণভোটের সিদ্ধান্তকে সাংবিধানিক কাঠামোর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করা যায়, তাহলে পরবর্তী সময়ে সংশ্লিষ্ট পরিষদের সদস্যদের শপথ গ্রহণসহ অন্যান্য প্রশাসনিক ও সাংবিধানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।

s
এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026