আন্তর্জাতিক ডেস্ক
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বুধবার হোয়াইট হাউসে নিজের প্রথম বছরের কার্যকালকে মূল্যায়ন করে স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন ভাষণে বলেছেন, তার নেতৃত্বে আমেরিকা ‘মৃত দেশ’ থেকে বিশ্বের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দেশ হিসেবে পুনর্জীবিত হয়েছে। তিনি বলেন, বর্তমান প্রশাসনের উদ্যোগে দেশটি এখন আগের যে কোনো সময়ের চেয়ে বড়, উন্নত, সমৃদ্ধ এবং শক্তিশালী।
ভাষণে ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক এবং সামাজিক অগ্রগতি তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, পূর্ববর্তী প্রশাসনের চার বছরে যুক্তরাষ্ট্রে নতুন বিনিয়োগ মাত্র এক ট্রিলিয়ন ডলারের কম হয়েছে, কিন্তু তার প্রথম এক বছরে সারা বিশ্ব থেকে ১৮ ট্রিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি এসেছে। তিনি আরও বলেন, তার প্রশাসন এমন একটি আমেরিকা গড়ছে যেখানে প্রতিটি শিশু উচ্চতর শিক্ষাগত শিখরে পৌঁছানোর সুযোগ পাবে, সরকার জনগণের কাছে জবাবদিহি করবে এবং কঠোর পরিশ্রমী নাগরিকদের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেবে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অর্থনৈতিক নীতিমালার প্রসঙ্গে বলেন, গত বছর কংগ্রেসকে আমেরিকার ইতিহাসের সবচেয়ে বড় কর হ্রাসের বিল পাসের আহ্বান জানিয়েছিলেন, যা রিপাবলিকান সংখ্যাগরিষ্ঠতার মাধ্যমে বাস্তবায়িত হয়েছে। তিনি ডেমোক্র্যাটদের সমালোচনা করে বলেন, তারা কর বৃদ্ধি চেয়েছিল এবং তার প্রস্তাবিত কর হ্রাস বিলের বিপক্ষে ভোট দিয়েছে।
স্বাস্থ্যসেবা খাতে ট্রাম্প বলেন, তিনি বড় বিমা কোম্পানিগুলোকে দেওয়া অর্থ বন্ধ করতে চান এবং তা সরাসরি জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে চান, যাতে তারা কম খরচে এবং উন্নতমানের স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণ করতে পারে। তিনি স্বাস্থ্যখাতে এই সংস্কারকে তার প্রশাসনের অগ্রাধিকার হিসাবে চিহ্নিত করেন।
ভাষণের সময় ট্রাম্প মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রেক্ষাপটকেও উল্লেখ করেন। বর্তমানে জনমত জরিপে রিপাবলিকান পার্টি পিছিয়ে রয়েছে এবং হাউসের সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারানোর সম্ভাবনা রয়েছে, যা তার দ্বিতীয় মেয়াদকে প্রভাবিত করতে পারে। সত্ত্বেও তিনি নিজের প্রথম বছরের অর্জনগুলো তুলে ধরে আপসহীন ও চ্যালেঞ্জিং সুর বজায় রাখেন।
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের ভাষণ তার রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক সাফল্যকে ভোটারদের কাছে তুলে ধরার প্রচেষ্টা হিসেবে মূল্যায়ন করা হচ্ছে। বিশেষ করে কর সংস্কার, বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধির উদ্যোগ এবং স্বাস্থ্যসেবা খাতে নতুন নীতি তার প্রশাসনের মূল অগ্রাধিকার হিসেবে প্রতিফলিত হয়েছে।
এছাড়া, ট্রাম্পের ভাষণে আমেরিকার বৈশ্বিক অবস্থান এবং আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ আকর্ষণের ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। তিনি মনে করেন, তার নীতিমালার মাধ্যমে দেশটি কেবল অর্থনৈতিকভাবে নয়, রাজনৈতিকভাবে এবং সামাজিক দিক থেকেও শক্তিশালী অবস্থানে এসেছে।
৭৯ বছর বয়সী প্রেসিডেন্টের এই স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন ভাষণ মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রেক্ষাপট এবং তাঁর দ্বিতীয় মেয়াদের পরিকল্পনার একটি নির্দেশক হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে।