বাংলাদেশ ডেস্ক
রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১২টায় সচিবালয়ে মন্ত্রীপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সভাকক্ষে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল সম্পর্কিত একটি গুরুত্বপূর্ণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভার সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
সভায় অংশগ্রহণ করেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আফরোজা খানম (রিতা), একই মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত এবং প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার।
সভায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল প্রকল্পের অগ্রগতি, বাস্তবায়ন সময়সূচি, অর্থায়ন এবং আধুনিক সুবিধাসমূহের বিষয়গুলো পর্যালোচনা করা হয়। বিশেষভাবে প্রকল্পের ডিজাইন, অবকাঠামো উন্নয়ন, যাত্রীসেবার মান এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী টার্মিনাল কার্যক্রম নিশ্চিত করার বিষয়গুলোর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী সভায় উল্লেখ করেন, বিমানবন্দর সম্প্রসারণ প্রকল্প দেশের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও পর্যটন খাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। তিনি জানান, টার্মিনাল নির্মাণ ও উন্নয়ন কাজের জন্য পর্যাপ্ত অর্থায়ন এবং সময়মতো বাস্তবায়ন নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাপনা গ্রহণ করা হবে।
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আফরোজা খানম সভায় বলেন, নতুন টার্মিনাল দেশের যাত্রী পরিবহন সক্ষমতা বৃদ্ধি করবে এবং আন্তর্জাতিক মানের যাত্রীসেবা নিশ্চিত করবে। তিনি আরও জানান, টার্মিনালে আধুনিক প্রযুক্তি, যাত্রী সুবিধা, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং পরিবেশবান্ধব অবকাঠামো গঠন করা হবে।
প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, প্রকল্পের দ্রুত বাস্তবায়ন দেশের অর্থনৈতিক ও পর্যটন খাতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। তিনি টার্মিনালের ডিজাইন এবং কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা অন্তর্ভুক্ত করার প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করেন।
প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার সভায় প্রকল্পের বাস্তবায়ন পর্যবেক্ষণ, প্রশাসনিক সমন্বয় এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মধ্যে কার্যকর যোগাযোগ নিশ্চিত করার দিকগুলো তুলে ধরেন।
সভা শেষে সিদ্ধান্ত হয়, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল প্রকল্পের সময়মতো কার্যক্রম সম্পন্ন করতে প্রতিটি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মধ্যে সমন্বয় ও পর্যবেক্ষণ বাড়ানো হবে। এছাড়া, টার্মিনালের আধুনিকীকরণ এবং আন্তর্জাতিক মানের যাত্রীসেবা নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় সকল নীতি-নির্দেশনা দ্রুত প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করা হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রকল্প দেশের বাণিজ্যিক কার্যক্রম, আন্তর্জাতিক ফ্লাইট সংখ্যা বৃদ্ধি এবং পর্যটন খাতে উল্লেখযোগ্য উন্নতি আনতে পারে। এছাড়া, উন্নত অবকাঠামো ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার বিমানবন্দরকে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম আধুনিক বিমানবন্দর হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে সহায়ক হবে।