রাজনীতি ডেস্ক
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় এক কর্মী আহত হয়েছেন। শনিবার বিকেলে গুলশান রোড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহত কর্মীর নাম আরাফাত।
আহত আরাফাত অভিযোগ করেন, এনসিপি নেতা আলিফ দেওয়ানের নির্দেশে সিয়াম, বিপ্লব, নোমান, রাসেল ও সাব্বির তার ওপর হামলা চালায়। তিনি বলেন, এটি পূর্বপরিকল্পিত হামলা। আরাফাত আরও উল্লেখ করেন, নির্বাচনের আগে তিনি শাপলা প্রতীকের এমপি প্রার্থী আব্দুল্লাহ আল আমিনের কাছে ৫০ হাজার টাকা অনুদান প্রদান করেছিলেন। আরাফাতের দাবি, নিজ হাতে অনুদান দেওয়ায় আলিফ দেওয়ান ক্ষুব্ধ হন এবং অনুদান তার মাধ্যমে দেওয়া না হওয়ায় ক্ষোভের বশে এই হামলার ঘটনা ঘটে।
অন্যদিকে, আলিফ দেওয়ান এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, নির্বাচনের পর আরাফাত পঞ্চবটি মোড়ে দলের নাম ব্যবহার করে চাঁদাবাজি করছিল এবং সে এনসিপির কোনো কর্মকর্তা নয়। আলিফ আরও বলেন, শনিবার বিকালে আরাফাত ও তার সমর্থকরা তাদের কর্মী বিপ্লবকে মারধরের উদ্দেশ্যে রোলিং মিলে নিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা গিয়ে বিপ্লবকে উদ্ধার করেন।
স্থানীয় এনসিপি নেতা তরিকুল ইসলামকে অভিযোগ জানানো হয়েছে। তিনি সংঘর্ষের বিষয়টি মীমাংসার দায়িত্ব নিয়েছেন। তবে আহত আরাফাত জানিয়েছেন, উপযুক্ত বিচার না হলে তিনি আইনি পদক্ষেপ নেবেন।
ঘটনাস্থলে পুলিশের উপস্থিতি এবং পদক্ষেপ, আহতের চিকিৎসা পরিস্থিতি এবং সংঘর্ষের পেছনের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক বিবরণ এখনও পাওয়া যায়নি। তবে নির্বাচনী প্রেক্ষাপটে দলীয় নেতা-কর্মীদের মধ্যে উভয় পক্ষের উত্তেজনা এবং আর্থ-সামাজিক সহমতের অভাবকে সংঘর্ষের সম্ভাব্য কারণ হিসেবে মনে করা হচ্ছে।
সংঘর্ষের এই ঘটনা স্থানীয় রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং দলীয় কর্মীদের মধ্যে মনস্তাত্ত্বিক বিরোধের প্রভাব তুলে ধরে। স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কি পদক্ষেপ নেবে এবং দলীয় নেতৃত্ব সংঘর্ষ প্রশমন ও অগ্রগতি নিশ্চিত করতে কতটা সক্রিয় হবে, তা পরবর্তী সময়ে পর্যবেক্ষণযোগ্য বিষয়।