শিক্ষা ডেস্ক
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে রাজধানীর মিরপুর-১৩ নম্বরে শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) পিটিআইয়ে আয়োজিত আলোচনাসভায় শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন বলেছেন, শুধুমাত্র আর্থিক অনিয়ম নয়, দায়িত্ব পালনে গাফিলতিও দুর্নীতির একটি রূপ। তিনি সকলকে সততা বজায় রেখে দায়িত্ব পালনের ওপর জোর দেন।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, একজন শিক্ষক যদি তার দায়িত্ব অনুযায়ী শ্রেণিকক্ষে সময় না দেন এবং পাঠদানকে কার্যকরভাবে সম্পন্ন না করেন, সেটিও দুর্নীতির শামিল। তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, “আপনি ৮ ঘণ্টা ক্লাস নেওয়ার জন্য স্কুলে গেছেন, কিন্তু ঠিকভাবে পাঠদান করলেন না—এটা কি দুর্নীতি নয়?” তিনি শিক্ষকদের তাদের পেশাগত দায়িত্বকে গভীরভাবে বোঝার আহ্বান জানান।
মিলন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের উদ্দেশ্য করে বলেন, দেশের উন্নয়নে শিক্ষাক্ষেত্রকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিতে হবে। তিনি বলেন, “নিজের সন্তানের মতো করে প্রতিটি ছাত্র-ছাত্রীকে গড়ে তুলুন। অনেক শিক্ষক নিজেদের সন্তানকে অন্য স্কুলে পড়ান। তখন প্রশ্ন আসে—আপনি কি সত্যিকারের শিক্ষক?” তিনি শিক্ষকদের অন্তর্দৃষ্টি দিয়ে ভাবার পরামর্শ দেন, তাদের দায়িত্ব কী এবং তারা কী করতে চান।
দায়িত্ব ও সততার বিষয়েও শিক্ষামন্ত্রী মন্তব্য করেন, সাধারণত আমরা খাওয়ার সময় হালাল-হারাম নিয়ে ভাবি, কিন্তু দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে তা প্রযোজ্য ভাবি না। তিনি নিজেও উল্লেখ করেন, পাঁচ বছর মন্ত্রী থাকাকালীন তার বিরুদ্ধে কোনো দুর্নীতির মামলা হয়নি এবং প্রত্যেককেই উচিত তাদের অবস্থান থেকে সৎ থাকা।
শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, প্রাথমিক স্তরে প্রতিটি শিশুকে যত্নসহকারে শিক্ষা দিলে ঝরে পড়ার হার কমবে। শিক্ষকদের দায়িত্ব আগামী বাংলাদেশের গঠন এবং শিক্ষাব্যবস্থাকে যুগোপযোগী করার জন্য বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। তিনি শিক্ষকদের সততা, দায়িত্বশীলতা ও কার্যকর পাঠদানকে দেশের শিক্ষাব্যবস্থার মূল ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করেন।
আলোচনাসভায় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু তাহের মো. মাসুদ রানার সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষাপ্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। সভায় শিক্ষাক্ষেত্রে নৈতিকতা, দায়িত্ব ও শিক্ষকদের ভূমিকার গুরুত্ব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।