বাংলাদেশ ডেস্ক
দেশে মোট ৪ কোটি ১০ লাখ পরিবারের জন্য ধাপে ধাপে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণ কার্যক্রম চলতি ফেব্রুয়ারি মাস থেকে শুরু হবে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি বলেছেন, প্রথম পর্যায়ে এই কার্ডের মাধ্যমে উপকারভোগীদের নগদ অর্থ সহায়তা দেওয়া হবে এবং প্রতিটি পরিবারের নারী সদস্যকে কার্ডের মালিকানা দেওয়া হবে। শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) বরিশালে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ তথ্য জানান।
মন্ত্রী বলেন, দেশে বর্তমানে প্রায় ৪ কোটি ১০ লাখ পরিবার রয়েছে। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এসব পরিবারের মধ্যে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করা হবে। তিনি উল্লেখ করেন, এ উদ্যোগের মাধ্যমে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিকে আরও বিস্তৃত ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর আওতায় আনা হবে। বিশেষ করে পরিবারের নারী সদস্যকে কার্ডের মালিকানা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নারীর ক্ষমতায়ন ও আর্থিক অন্তর্ভুক্তিকে উৎসাহিত করবে বলে তিনি মত প্রকাশ করেন।
সরকারের সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির আওতায় বিভিন্ন সময়ে বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, মাতৃত্বকালীন ভাতা ও খাদ্য সহায়তা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, ফ্যামিলি কার্ড চালু হলে উপকারভোগী চিহ্নিতকরণ, সহায়তা বিতরণ এবং তথ্যভিত্তিক তদারকি আরও সহজ হবে। ডিজিটাল ডাটাবেইসের মাধ্যমে পরিবারভিত্তিক তথ্য সংরক্ষণ ও আর্থিক সহায়তা সরাসরি প্রদান সম্ভব হলে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়বে।
জলবায়ু পরিবর্তন প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, আগামী ৩০ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে দেশের একটি বড় অংশ সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকিতে পড়তে পারে। তিনি জানান, এ প্রেক্ষাপটে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় সরকার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। উপকূলীয় অঞ্চল রক্ষা, টেকসই অবকাঠামো নির্মাণ, বনায়ন বৃদ্ধি এবং অভিযোজনমূলক প্রকল্প বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো কাজ করছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশ হওয়ায় সমন্বিত নীতি ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বরিশাল বিভাগের উন্নয়ন পরিকল্পনা সম্পর্কেও কথা বলেন তথ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, ভোলা থেকে প্রাপ্ত গ্যাস বরিশালে সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি বনগাঁ থেকে পায়রা পর্যন্ত চারলেন সড়ক নির্মাণসহ অবকাঠামোগত উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দক্ষিণাঞ্চলের শিল্পায়ন, বাণিজ্যিক কার্যক্রম এবং যোগাযোগ ব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে সংশ্লিষ্টদের ধারণা।
আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন বিভাগীয় কমিশনার ও সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান। বক্তব্য দেন বরিশাল রেঞ্জের ডিআইজি মো. মনজুরুল আলম, পুলিশ সুপার মো. ফারজানা ইসলাম, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ খায়রুল আলম সুমনসহ বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তা। অনুষ্ঠানে ভাষা আন্দোলনের তাৎপর্য, জাতীয় চেতনা এবং উন্নয়ন কার্যক্রমে নাগরিক অংশগ্রহণের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।
সরকারের ঘোষিত ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে উপকারভোগী নির্বাচন, তথ্য যাচাই ও বিতরণ প্রক্রিয়া কীভাবে পরিচালিত হবে—সে বিষয়ে বিস্তারিত নির্দেশনা শিগগিরই প্রকাশ করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। পর্যায়ক্রমে সারা দেশে এ কর্মসূচি বিস্তৃত হলে নিম্ন ও মধ্যআয়ের পরিবারগুলো সরাসরি আর্থিক সহায়তা পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।