আন্তর্জাতিক ডেস্ক
দক্ষিণ লেবাননের ইকলিম আল-তুফাহ অঞ্চলের ব্লাত এবং ওয়াদি বারঘৌতি এলাকায় ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী নতুন করে বিমান হামলা চালিয়েছে। এই হামলার ফলে স্থানীয় জনগণ ও অবকাঠামোর ওপর নতুন ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই হামলার মাধ্যমে ২০২৪ সালের নভেম্বরে ইসরায়েল ও লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর মধ্যে স্বাক্ষরিত যুদ্ধবিরতি চুক্তি পুনরায় লঙ্ঘিত হয়েছে। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী দাবি করেছে, তারা এই অভিযান পরিচালনা করছে হিজবুল্লাহর সামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে। তবে সাম্প্রতিক বিমান হামলাগুলিতে বেসামরিক নাগরিক এবং জনহিতকর স্থাপনার ওপর ব্যাপক প্রভাব পড়ছে।
এর আগে, ২৬ ফেব্রুয়ারি লেবাননের বেকা উপত্যকায় ইসরায়েলি হামলায় একজন নিহত এবং ২৯ জন আহত হয়। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও ন্যাশনাল নিউজ এজেন্সির তথ্য অনুযায়ী, বালবেক সংলগ্ন কাফর দান এলাকায় চালানো ওই হামলায় ১৬ বছর বয়সী সিরীয় কিশোর হুসেইন মহসিন আল-খালাফ নিহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে বেশিরভাগই স্থানীয় বেসামরিক মানুষ।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দক্ষিণ লেবাননের এই অঞ্চলে পুনরায় বিমান হামলার ফলে গত বছরের যুদ্ধবিরতি চুক্তির কার্যকারিতা প্রশ্নের মুখে পড়েছে। স্থানীয় নিরাপত্তা ও মানবাধিকার সংস্থাগুলো জানিয়েছে, নিয়মিত বিমান হামলা বেসামরিক জনগোষ্ঠীর ওপর দীর্ঘমেয়াদী সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব ফেলছে। স্কুল, স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও আবাসিক এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় জনজীবন ব্যাহত হচ্ছে।
লেবাননের সরকারি ও মানবাধিকার সংস্থা বলেছে, এই ধরনের হামলা লেবাননের আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা হুমকির মধ্যে ফেলছে এবং রাজনৈতিক উত্তেজনা বৃদ্ধি করছে। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা ইতোমধ্যেই ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে উত্তেজনা কমাতে পুনরায় কূটনৈতিক উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছেন।
দক্ষিণ লেবাননের এই অঞ্চলে বেসামরিক ও সামরিক লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে অস্পষ্টতা, বারবারের বিমান হামলার ঘটনা এবং সংঘর্ষের ধারাবাহিকতা স্থানীয় জনগণের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে উদ্বেগজনকভাবে প্রভাবিত করছে। নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলছেন, বেসামরিক লোকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা, ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামোর পুনর্গঠন এবং সংঘর্ষ প্রতিরোধমূলক কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ছাড়া অঞ্চলে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা কঠিন হবে।
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এবং স্থানীয় গণমাধ্যমগুলো নিয়মিত বেসামরিক হতাহতের তথ্য সরবরাহ করছে। এ ধরনের তথ্য আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর পর্যবেক্ষণের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিনের হামলার ফলে স্থানীয় শিক্ষাজীবন, স্বাস্থ্যসেবা এবং অর্থনৈতিক কার্যক্রমের ওপর নেতিবাচক প্রভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতি বিবেচনায়, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে মানবিক পরিস্থিতি মনিটর করা এবং সঙ্কট মোকাবিলার জন্য কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে।