আন্তর্জাতিক ডেস্ক
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মার্কো রুবিও আগামী সোমবার ইসরাইলে গিয়ে ইরান সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে উচ্চস্তরের বৈঠক করবেন। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী একই সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে তাদের উপস্থিতি আরও জোরদার করছে, যা ইরান হামলার সম্ভাবনার প্রেক্ষাপটে নেওয়া পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র টমি পিগট জানিয়েছেন, রুবিও ইরান, লেবানন এবং গাজার জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্টের ২০-দফা শান্তি পরিকল্পনার বাস্তবায়নসহ আঞ্চলিক অগ্রাধিকার নিয়ে আলোচনা করবেন। তিনি মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে আসবেন। উল্লেখ্য, রুবিও সাংবাদিকদের সঙ্গে বিমানে আনবেন না, যা মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দীর্ঘদিনের প্রথার মধ্যে বিরল ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এই সফর এমন সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে যখন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরান গত বৃহস্পতিবার জেনেভায় পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে নতুন দফা আলোচনা করেছে। আলোচনার লক্ষ্য হলো যুদ্ধ এড়ানো এবং পারস্পরিক উত্তেজনা কমানো। মধ্যস্থতাকারী ওমান জানিয়েছে যে আলোচনা কিছু অগ্রগতি পেয়েছে, যদিও মার্কিন পক্ষ বিষয়টি নিয়ে খুব কম তথ্য দিয়েছে। অন্যদিকে, ইরান যুক্তরাষ্ট্রকে চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য অতিরিক্ত দাবিসমূহ প্রত্যাহার করতে আহ্বান জানিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপের মধ্যে জরুরি নয় এমন কর্মীদের ইসরাইল ত্যাগের নির্দেশও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি ইরান নিয়ে মার্কিন প্রশাসনের নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক পরিকল্পনার সঙ্গে সম্পর্কিত একটি সতর্কবাণী হিসেবে দেখা যেতে পারে। এছাড়া, রুবিওর সফর মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে মার্কিন কূটনীতি ও নিরাপত্তা সম্পর্কিত সিদ্ধান্তগুলোকে আরও দৃঢ় করার প্রেক্ষাপট তৈরি করছে।
মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং সামরিক বাহিনী সূত্রে জানা গেছে, মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক শক্তি বৃদ্ধি করা হচ্ছে, যাতে ইরান বা অঞ্চলীয় সংঘাতের ক্ষেত্রে দ্রুত প্রতিক্রিয়া নেওয়া যায়। এছাড়া, মার্কিন প্রশাসন এই পরিস্থিতি কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করছে।
বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন, ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনা এবং জেনেভায় পারমাণবিক আলোচনার ফলাফল মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতার ওপর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। এই পরিস্থিতি অঞ্চলে নিরাপত্তা, অর্থনীতি এবং কূটনৈতিক সম্পর্কের ওপর সম্ভাব্য প্রভাবের বিষয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
সংক্ষেপে, মার্কো রুবিওর ইসরাইল সফর এবং যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক প্রস্তুতি ইরান সংক্রান্ত উত্তেজনার পরিপ্রেক্ষিতে কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এটি মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক গতিশীলতা প্রভাবিত করতে পারে।