আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি দেশের রাজধানী তেহরান থেকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ইরানের একজন কর্মকর্তা, যিনি বার্তাসংস্থা রয়টার্সকে তথ্যটি জানিয়েছেন। কর্মকর্তার বরাতে জানা গেছে, ইরানে নতুন করে ইসরায়েলি হামলার প্রেক্ষাপটে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে এবং খামেনির সুরক্ষার জন্য তাকে নিরাপদ স্থানে নেওয়া হয়েছে।
শনিবার সকালে তেহরানে আকস্মিকভাবে হামলা চালায় ইসরায়েলি বাহিনী। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রকের বরাতে জানা গেছে, এই হামলাকে তারা ‘পূর্ব-নির্ধারিত আক্রমণ’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। একই সঙ্গে তেহরানের কেন্দ্রস্থলে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে, যা স্থানীয় গণমাধ্যমও নিশ্চিত করেছে।
ফার্স নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, তেহরানের রিপাবলিক এলাকায় একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। বিস্ফোরণ ও ক্ষেপণাস্ত্র আঘাতের ফলে রাজধানীর নিরাপত্তা পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। ঘটনার পর ইরানি কর্তৃপক্ষ রাজধানীতে নিরাপত্তা শক্তি বৃদ্ধি করেছে এবং গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার কার্যক্রম ত্বরান্বিত করেছে।
অন্যদিকে, ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ দেশজুড়ে বিশেষ ও স্থায়ী জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, ইসরায়েল এই হামলার প্রেক্ষিতে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করেছে এবং নিরাপত্তা শঙ্কা মোকাবিলার জন্য দেশজুড়ে সতর্কতা জারি করেছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনা পুনরায় বৃদ্ধি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা পরিস্থিতি অনিশ্চিত হয়ে উঠেছে। তেহরানে সর্বোচ্চ নেতাকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া ঘটনাটি ইরানের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থার গুরুতর প্রস্তুতির ইঙ্গিত দেয়। এর প্রভাব দৃষ্টিকোণ থেকে, সাম্প্রতিক হামলার সঙ্গে সংযুক্ত রাজনৈতিক ও সামরিক উত্তেজনা আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিকভাবে মনিটর করা হচ্ছে।
এই হামলার ফলে ইরানের রাজধানীতে সাধারণ মানুষের চলাচল সীমিত হয়েছে এবং সরকারি ও বেসরকারি গুরুত্বপূর্ণ ভবনের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। এছাড়া, তেহরানসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে নিরাপত্তা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে, যা সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত ও বিস্ফোরণকে কেন্দ্র করে জনসাধারণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার চেষ্টা হিসেবে ব্যাখ্যা করা হচ্ছে।
ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনা দীর্ঘদিনের ইতিহাস রয়েছে। এর আগেও বিভিন্ন সময়ে দু’দেশের মধ্যে সামরিক ও কূটনৈতিক উত্তেজনা দেখা গেছে। সাম্প্রতিক এই হামলা এবং সর্বোচ্চ নেতাকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া ইঙ্গিত দেয় যে, মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা এখন অনিশ্চিত। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা এ পরিস্থিতি মনিটর করছেন এবং সম্ভাব্য বৈশ্বিক প্রভাব বিশ্লেষণ করছেন।